Search

আজও জনপ্রিয় মৌসুমী

মৌসুমী

মৌসুমী

রুপালিপর্দার বড় তারকা মৌসুমী। তাই তার নামের সাথে বাড়তি কোনো বিশেষণের প্রয়োজন নেই। অভিনয়, মডেলিং ও পরিচালনায় নিজের স্বকীয়তার জানান দিয়েছেন সাফল্যের সাথেই। এখনও তিনি চলচ্চিত্র ও টিভি মিডিয়ায় অভিনয় করছেন সমানতালে। সম্প্রতি নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েছেন তিনি। তাকে নিয়ে

লিখেছেন খালেদ আহমেদ

জননন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম মৌসুমীকে প্রথম চলচ্চিত্রের অফার দিলেও মৌসুমীর এই মাধ্যমে অভিষেক হয় সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। আর সেই ছবিতে তার সহযাত্রী হয়েছিলেন প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ। এ চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠানে মৌসুমীর কথা বলার ধরন দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন, এই মেয়েকে দিয়েই হবে। তবে এতটা যে হয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

একসময় আমাদের চলচ্চিত্রের নায়িকা বলতে বিশেষ করে নারী দর্শকেরা শাবানার নামটাই জোরেশোরে উচ্চারণ করতেন। এখন তার নামের পাশে আরও একটি নাম যুক্ত হয়। আর তা মৌসুমী। শাবানার মতো মৌসুমীকেও তার পরের প্রজন্মের কেউ কেউ আদর্শ ধরে নিয়ে পথ চলছেন।

মৌসুমী যে স্বপ্ন নিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে পা রেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন অনেক আগেই তিনি পূরণ করেছেন। সময়ের বিবর্তনে তিনি এখন পরিণত অভিনেত্রী। অভিনয়ের মতো পরিচালক হিসেবেও তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আজ থেকে বছর কুড়ি আগে মৌসুমী নিজেও কি ভেবেছিলেন, দর্শক আকর্ষণের কি অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তার! দেখেছিলেন কি বড় কোনো স্বপ্ন! তবে চলচ্চিত্র নিয়ে মৌসুমী নিজে যতটা না স্বপ্ন দেখেছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বড়পর্দার দর্শক আর নির্মাতাদের। আর এ কারণেই দুইশ’রও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও তার অভিনয় দেখতে হলমুখী মানুষের ভিড় কখনও কমেনি।

নানা সময়ে নানা মাপের অভিনেতার বিপরীতে কাজ করে মৌসুমীই তৈরি করেছেন একধিক পর্দাসফল জুটি। যদিও মৌসুমী বারবারই বলে এসেছেন সময়ের বাস্তবতা আর দর্শকের চাহিদার বাইরে জুটি প্রথার ভিন্ন কোনো আবেদন নেই। আর তাই বড়পর্দার বিশাল ক্যানভ্যাসে শিল্পিত আঁচড় কাটার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে মৌসুমী বেছে নিয়েছেন অভিনয়কেই।

 

অভিনয়কে ভালোবাসেন বলেই বহু চলচ্চিত্রের কাজ হাতে থাকা সত্ত্বেও মৌসুমী আলাদা করে সময় বের করেছিলেন ছোটপর্দার জন্য। ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করে নিজের অভিনয় প্রতিভাটিকে উত্তরোত্তর শানিয়ে নেওয়ার তাগিদে এখানেও বহু সার্থক চরিত্র সৃষ্টি করেছেন মৌসুমী। মায়ের অনুরোধ আর দুই সন্তান স্বাধীন ও ফাইজাকে সময় দিতে গিয়ে প্রায় বছর তিনেক অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলেন। পরে আবারও নিয়মিত হয়েছেন অভিনয়ে। এ বছরই মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে ‘এক কাপ চা’। এ প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘চলচ্চিত্রের গল্প ও নির্মাণ বিভিন্ন রকমের, আমি ভীষণ আশাবাদী প্রত্যেকটি ছবি নিয়ে, ‘প্রজাপতি’ ছবিতে যেমন আমার অভিনয় দর্শকদের ভালো লেগেছে, তেমনি আগামী চলচ্চিত্রগুলোতেও আমি অভিনয়ের প্রতি অনেক বেশি যত্নশীল থাকব।’ বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্র ও টিভি মিডিয়ায় অভিনয় করছেন সমানতালে।

আর সম্প্রতি নাটকের অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসছে ঈদের জন্য বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেছি। এরমধ্যে ‘আইসক্রিম ও অনুভূতির গল্প’, ‘হলুদ বাতির গল্প’ প্রভৃতি। পার্থ সরকারের পরিচালনায় ‘আইসক্রিম ও অনুভূতির গল্প’ টেলিফিল্মে মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন সজল। এই টেলিফিল্মে দেখা যাবে, মন ঢাকার মেয়ে। ট্রেন মিস করে বসে আছে একটা রেল স্টেশনে। আয়ান ছবি তুলতে তুলতে হঠাত্ ফ্রেমে আবিষ্কার করে মনকে। অনুমতি না নিয়েই কয়েকটা ছবি তুলে ফেলে। টের পেয়ে রিঅ্যাক্ট করে মন। রাগারাগি করে সেখান থেকে চলে যায়।

অনেকক্ষণ পর অন্য এক জায়গায় বসলে সেখানেও দেখে আয়ানকে। মন ভাবে আয়ান বুঝি তার পিছু নিচ্ছে। যেদিকেই তাকায় সেদিকেই মন দেখে আয়ান তার পিছু নিচ্ছে। একেবার একেবার পোশাকে। কখনও পান বিক্রেতা, কখনও ঝাড়ুদার, কখনও ট্রেনের টিটি, কখনও চাওয়ালা, কখনও কুলি, কখনও সেলসম্যান। আসলে আয়ানের কাজটাই এমন, ঘুরে ঘুরে ছবি তোলা। স্থানীয় এক চা দোকানদার এ ব্যাপারে সাক্ষী দিলে মন তা বিশ্বাস করে। দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের শুরু হয়। কথা হয় আয়ান মনকে সারা শহর ঘুরিয়ে দেখাবে। শর্ত হলো আয়ান ঢাকা গেলে তখন মনও আয়ানকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। আয়ান সারা চট্টগ্রাম শহর ঘুরে বেড়ায়। বাইকের পেছনে মন। জিউসি মোড়, পতেঙ্গা বিচ, ছোটখাটো পাহাড়, ওয়ার সিমেট্রি ইত্যাদি নানা জায়গায় নিয়ে যায়। মনকে খুবই আকর্ষণীয়ভাবে আইসক্রিম খাওয়া শেখায় আয়ান—এত শুধু খাওয়া নয়, একটা শিল্প! এখানে ওখানে দুইজন সারাদিন ঘুরে বেড়ায় ছন্নছাড়ার মতো। মনকে ছবি তোলা শেখায়।

সারাদিন ঘোরাঘুরি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সন্ধ্যার দিকে ঘটে আরেক ঘটনা। রাস্তায় মন একা দাঁড়িয়েছিল। একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল এক পতিতা। এমন সময় পুলিশের এক ভ্যান আসে। পতিতাসহ মনকেও তুলে নিয়ে যায় থানায়। আয়ান মনকে বাঁচাতে গেলেও ওকেও দালাল সন্দেহে ধরে নিয়ে যায়। মহা ফাঁপরে পড়ে মন ও আয়ান। মন অস্থির হয়ে কান্নাকাটি আরম্ভ করে।

আয়ান শুরুতে কিছু করে না। মনকে অস্থির হতে দেয়। সেলের ভেতর দুজনের কিছু অদ্ভুত সময় কাটে। থানার ওসি আসলে দেখা যায় আয়ানকে খুব ভালোমতো চেনে। ওসি সাহেব ওদেরকে ছেড়ে দেয়। আয়ানের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতায় পড়ে। দুজনে মিলে স্টেশনে যায়। আয়ানের খুব মন খারাপ হয় মন চলে যাবে বলে। মনকে থেকে যেতে বলে ওর শহরে। মন হাসে। কথা দেয় আবার আসবে। ফোন নম্বর দেয়।

ঢাকা গেলে যে অবশ্যই ওর সঙ্গে দেখা করে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময় আরেক গল্প বলে মন। ফিয়ান্সেকে সারপ্রাইজ দিতে হুট করে এসেছিল এই শহরে। এসে নিজেই সারপ্রাইজড হয়ে যায়। হাসানের ফ্লাটে দেখে অন্য এক মেয়ে তুলিকে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাসান ও তুলি দুর্ঘটনাবশত মনের হাতে খুন হয়। আয়ান মনকে সান্ব্তনা দেয়। ইচ্ছে করে তো আর খুনটা করেনি। বলে যত যাই হোক পাশে থাকবে। এক সময় ট্রেন আসে। চলে যায় মন। আয়ান মনকে ভুলতে পারে না। মন চলে যাওয়ার পর অনেক আগ্রহ নিয়ে ল্যাপটপে ছবিগুলো ডাউনলোড করে। সমস্যা হলো, মনের ছবিগুলো ক্যামেরার মেমোরি কার্ডে খুঁজে পাচ্ছে না। বলা ভালো মনকে পাচ্ছে না। আয়ানের মাথা খারাপ হয়ে যায়। মনের মোবাইল নম্বরে ফোন করে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। স্টেশনে বসেই মনের জন্য অপেক্ষা করে কয়েক বছর।

এ রকম একটি গল্পে অভিনয় প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘এর গল্পটা অনেক সুন্দর। আর সজলও এতে অনেক ভালো অভিনয় করেছে। আশা করছি নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ এদিকে আবারও নতুন একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন মৌসুমী। বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও পরিচালক আনজাম মাসুদ। ‘লীজান হেয়ার লস অফ’-এর বিজ্ঞাপনে এর আগে আনজাম মাসুদেরই নির্দেশনায় মৌসুমী মডেল হয়েছিলেন। সেই বিজ্ঞাপনটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। মৌসুমীর দর্শকপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করেই আবারও আনজাম মাসুদ ‘লীজান মেহেদী’-র বিজ্ঞাপনে মৌসুমীকেই মডেল হিসেবে চূড়ান্ত করে বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিজ্ঞাপনটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।

মৌসুমী

মৌসুমী

আবারও আনজাম মাসুদের নির্দেশনায় মডেল হওয়া প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘আনজাম ভাইয়ের নির্দেশনায় এর আগেও লীজানের মডেল হিসেবে কাজ করেছি। আবারও একই গ্রুপের পণ্যের মডেল হয়েছি। নতুন বিজ্ঞাপনটির কনসেপ্টও অনেক ভালো। অনেক ভালো লেগেছে কাজটি করতে। তা ছাড়া নির্মাতা হিসেবে আনজাম ভাই অসাধারণ।’ শিগগিরই বিজ্ঞাপনটি বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারে আসবে। সম্প্রতি মৌসুমী নির্মাণ করলেন একটি টেলিফিল্ম, ‘চলো বহুদূর’। এর মূল গল্প রচনা করেছেন আবদুর রহমান। টেলিফিল্মটি ঈদ উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে। বেশ কয়েক বছর আগে প্রথমবার মৌসুমী ‘কখনও মেঘ কখনও বৃষ্টি’ শিরোনামের ছবিটি নির্মাণ করেন। এরপর যুগ্মভাবে তিনি ‘মেহেরনিগার’ ছবিটি পরিচালনা করেন। আগামীতে নিয়মিত পরিচালনা করার ইচ্ছে রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

comments




Leave a Reply

Your email address will not be published.