Search

কোটা পদ্ধতি কতটুকো যোক্তিক ? সংবিধানের আলোকে ব্যাখা

কোটা পদ্ধতি কি সঠিক ? সংবিধান সিদ্ধ ?

কোটা পদ্ধতির যোক্তিকতা

কোটা পদ্ধতির যোক্তিকতা

সংবিধানের ২৮/২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ বলে সকল প্রকার কোটা দেশে চালু রয়েছে। চাকুরীতে কোটা, ভর্তীতে কোটা ইত্যাদি। চলুন দেখি এই কোটার বৈধতা কতখানি রয়েছে। আসলে সংবিধানে কি লেখা আছে….. এই কোটার পক্ষে।

২৮। (৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

দেখুন এখানে বলা হয়েছে অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান প্রনয়ন করা থেকে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না। মানে হলো এখানে বিশেষ বিধান করা যাবে অনগ্রসর অংশের জন্য অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া অংশ। এখন যদি এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন বিশেষ বিধান প্রনয়ন করে কোন বিশেষ সুযোগ দিতে হয় তাহলে প্রথমে প্রমান করতে হবে কারা অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র, শিক্ষা দিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছে বা নিরক্ষর ইত্যাদি। এটির প্রমান পেলে তখনই তাদের জন্য কোন কোটা ইস্যু করা যাবে। অন্যথায় নয়। তাহলে এটি কতটুকো যোক্তিক বলে মনে করেন ? কমেন্ট দিয়ে বলে যাবেন আশা করি।

অর্থাৎ একটা জরিপ চালানো প্রয়োজন। যেখানে প্রমান পেতে হবে দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় তারা পিছিয়ে তাই তাদের এই কোটা দেয়া হচ্ছে। যেমন ধরুন আপনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক লোককেই দেখতে পান যাদেরকে আমরা টোকাই বলে থাকি। তাদের অন্ন নাই তাই চেয়ে খায়; আমাদের হাতের কোকাকোলার বতলটা ফেলে দেয়ার পর সেটা  তুলে খাওয়ার চেষ্টা করে, গায়ে জামা নেই, তাদের শিক্ষা নেই তাই তারা আমাদের সাথে সুন্দর করে কথা বলতে পারেনা আর আমরাও তাই তাদের দুর দুর করে দুরে যেতে বলি, তার চিকিৎসার দরকার নেই; প্রচন্ড জ্বরের মধ্যেও এরা প্যারাসিটামলের দেখা পায়না আর বাকি রোগ হলেতো নিরবে খোদার মাল খোদার কাছে পৌছে যায়; কারনটাও জানতে পারবেনা।

এত কিছুর পরেও ‍তাদের ২৮ এর (৪) অনুচ্ছেদ বলে কোন কোটা দেয়া হয়না। কারন তারা পিছিয়ে পড়া জাতি হিসেবে চিহ্নিত নয়, তাদের মৌলিক অধিকার বলে কিছু নেই। চিহ্নিত হয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতী-নাতনী। তাহলে কি উল্লেখ করা টোকাইদের চেয়েও খারাপ অবস্থা এসব কোটাধারীদের ?

যারা প্রকৃত পিছিয়ে পরা সমাজ তাদের জন্য কিসের মৌলিক অধিকার, আর কিসের কোটা!  বরং তাদের সবকিছু লুট করে নিজেদের করে করে নিয়েছে ঐ কোটাধারী সমাজ। কোটাধারীদের বলছি…. নিজেদের পোশাকে আজ গন্ধ নিয়ে দেখবেন ঐ টোকাইদের জামা না থাকা গায়ের গন্ধ পাবেন। যেদিন আপনি বেতনটা পান সেদিন টাকাগুলোর গন্ধেও তাদের হাহাকার পাবেন। আর কোন কোটা ভোগী যদি তাদের দেখে খারাপ লাগে তাহলে ভাববেন তাদের সপ্ন চুরি করে আজ তাদের টোকাই বানিয়েছেন, দুদিন পরে আপনার বউ বা বোনের কানের দুল টান দিবে, রাস্তায় দারিয়ে ছিনতাই করবে আর আপনি বিভিন্ন ফোরামে পুলিশের বিরুদ্ধে বলতে থাকবেন যে পুলিশ ব্যার্থ। ওরা সারা জীবন যত অপরাধ করবে তার সবকিছুর উপর আপনি কমিশন পাবেন। লেটার মার্ক কমিশন।

নিজের উপর ‍যদি এতই বিশ্বাস থাকে তাহলে টোকাই নামীয়দের স্বপ্ন চুরি না করে কোটা বাদ দিয়ে লড়াই করেন। উপলব্দি করার সুযোগ আসবে রনক্ষেত্র কতটা বিশাল। এর মধ্যে চাকুরী পেতে গিয়ে নিজেকে তখন টোকাই বলেই মনে হতে পারে।

কোটাধারীরা যে টোকাইদের চেয়েও খারাপ অবস্থানে আছেন তার প্রমান সংবিধানের ২৮ এর ৪ নং অনুচ্ছেদ। কারন তারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টি হিসেবে প্রমানিত আর টোকাই পরিবার এগিয়ে থাকা জনগোষ্টি বা স্বাভাবিক। কোটাধারীরা Salute to TOKAI because they are at better position than You ‍and they also gave you his quota.

২৯। (১)“ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।”

আসলে কি সুযোগের সমতা আছে ?

২৯। (২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

আসলেই কি নিয়োগ লাভে বৈষম্য প্রদর্শন হয়নি ? সাবেক পি এস সি চেয়ারম্যান বলেছিলেন  পিয়ন পোস্টে ভুরি ভুরি কোটা হোক কিন্তু ‍……)

তাহলে কোথায় থাকল সংবিধানে ঐ সমস্ত অনুচ্ছেদ ? কোটাভোগী একজনের চাকুরীও বৈধ ? সংবিধান তাদের কোটার পারমিশন দেয়নি। কার প্রাপ্য কোটা কে ভোগ করে। খুব চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে প্রতিদিন এভাব হাজারো স্বপ্ন চুরি হচ্ছে… এই স্বপ্ন চোরা কারা…………………… ?

comments