Search

ঘুরে আসুন ফয়েজ লেক

ঘুরে আসুন ফয়েজ লেক চট্রগ্রাম, অনেকের অনুরোধে এবার

ফয়েজ লেক নিয়ে লিখতে বসলাম। জেনে রাখুন কাজে দেবে

 

ফয়েজলেক
ফয়েজলেক চট্রগ্রাম

শীত মানেই ঘোরাঘুরি করার উপযোগি সময় তবে ফয়েজ লেকে গরমেও প্রিয়। একটু সময় নিয়ে নিজের কাজের অবসাদ দুর করার জন্য বেছে নিতে পারেন ফয়েজলেক।  এর আগে লিখেছিলাম পতেঙ্গা ও সাগরিকা সমুদ্র সৈকত নিয়ে, আজ নিজে ঘুরে এসে লিখতে বসলাম ফয়েজ লেক নিয়ে। ফয়েজ লেক নিয়ে এখানে লিখা সবটুকো তথ্য আমার নিজের প্রত্যক্ষ দর্শন থেকে । সুতরাং ইউনিক ছবি এবং বর্ননা দুইই একদম নিরেট খাঁটি। পাশের ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন কি অপার সৌন্দর্যের মিলন মেলা ।

 

ফয়েজলেক ( foy’s lake ) :

ফয়েজলেক ( Foy’s Lake ) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলস্টেশন এর অদূরে (চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৮ কিমি. দূরে অবস্থিত ) খুলশি এলাকায় অবস্থিত একটি কৃত্রিম রদ। এটি ১৯২৪সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কতৃপক্ষ এর তত্ত্বাবধানে খনন করা হয় এবং সেসময় পাহারতলী লেক হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ইংরেজ রেলপ্রকৌশলী ফয়-এর (Foy) নামে নামকরণ করা হয় । বর্তমানে এটির মালিকানা বাংলাদেশ রেলওয়ে্র তবে এটি পরিচালনা করে কনকর্ড। ঢাকার ফ্যান্টাসি কিংডমও একই কোম্পানীর। বেশ বড় মাপের (৩৩৬ একর জমি) এই লেকটি পাহাড়ের এক শীর্ষ থেকে আরেক শীর্ষের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় আড়াআড়ি ভাবে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্ট। আড়াআড়ি ভাবে নির্মিত বাঁধটি চট্টগ্রাম শহরের উত্তর দিকের পাহাড় শ্রেণীর থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই লেকটিকে সৃষ্টি করেছে। ফয়’স লেকের পাশেই আছে চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় বাটালি হিল। লেকের আশেপাশের মনোরম পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে প্রতি বছর দেশি বিদেশি বহু পর্যটক ছুটে আসেন।

কোথায় থাকবেন :

চট্রগ্রাম পৌছার পর যারা রেষ্ট করতে চান বা থাকতে চান দুই এক দিন তারা হোটেল আগ্রাবাদে থাকতে পারেন। চট্রগ্রামে আগ্রাবাদ হোটেলের একটি নিজস্ব পরিচয় রয়েছে এখানে আপনি আপনার সঙ্গিসহ থাকতে পারবেন। এটি একটি অভিজাত হোটেল। এছাড়াও অনেক হোটেল এবং রিসোর্ট রয়েছে। তাছাড়া ফয়েজলেক গেটেও রিসোর্টের ব্যাবস্থা আছে।

 

ফয়েজলেক

ফয়েজলেক

কিভাবে যাবেন:

চট্রগ্রাম শহরের জিইসি মোড় থেকে সিএনজিতে ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা নিবে। রিক্সায় নিবে ৪০ টাকা। বিকেলটা বেশি সুন্দর লাগে এখানে তবে আপনি যদি এক দিনের সময় নিয়ে যান তাহলে বিকেলে গিয়ে দেখে আর ঘুরে শেষ করতে পারবেন না।  সুতরাং বের হতে হবে আপনার চট্রগ্রামে থাকা না থাকার উপর ভিত্তি করে। বেশি ভাল হয় আপনি ফয়েজ লেক গেটের রিসোর্টে থাকলে। ইচ্ছা করলে ঘুরতে পারবেন আবার ফিরে এসে রেষ্ট করে আবার যেতে পারবেন।

 

যা সঙ্গে রাখবেন :

১) ক্যামেরা,  ২) থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট বা হাফ প্যান্ট, টাওয়েল আর টি শার্ট, ৩) পানি আর হালকা কোন খাবার, ৪) সঙ্গী যেমন বন্ধু বা প্রেমিক/প্রেমিকা সহ আপনি আরো যা যা দরকার বলে মনে করেন। মনে রাখবেন থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট বা হাফ প্যান্ট আর টি শার্ট না থাকলে আপনাকে বিপত্তিতে পড়তে হবে এবং টাকা বেশি খরচ হবে, মজাও কম হবে কারন আপনি ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ করতে হলে এগুলো দরকার। না থাকলেও ভাড়া পাবেন তবে নিজের মতো করে মজা পাবেননা।

 

ফয়েজলেক

ফয়েজলেক

কখন নৌকায় চড়বেন :

শীতের দিনে আপনি ৩ টার দিকে নৌকায় চড়ে ফয়েজ কাকার লেক অর্থাৎ ফয়েজ লেক ঘুরে ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে পৌছে দেবে বোট। বেশি মজা করতে চাইলে ছবিতে দেখানো ছোট বোট নিলে বেশি ভাল হবে। ইচ্ছা মত ঘুরতে পারবেন। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায নৌকা থামিয়ে ফটো সুট করতে পারবেন। সঙ্গী থাকলে তার সাথে একান্ত একটু সময় পাবেন যেটা আপনার কাছে অন্যরকম ভাল লাগবে।

 

যাই হোক আপনি ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে পৌছে পড়ে ফেলুন আপনার বহন করা কাপড়। বিভিন্ন রাইডে চড়া শেষ হলে ওখানেই থাকার রিসোর্ট আছে। তবে এর জন্য আপনাকে সর্বনিম্ন প্রতি রাত ৫০০০ টাকা করে গুনতে হবে। পাহাড়ে উঠবেন সন্ধার আগে তাহেলে সেখানে রাখা বিশাল আকৃতির বাইনোকুলারের সাহায্যে সাগরিকা সমুদ্র সৈকত , শহর, ক্রিকেট স্টেডিয়াম সহ অনেক কিছু। মাত্র ৩০টাকা  ফি । প্রতিটি স্থানে ছবি তুলে রাখুন। যখন বাড়িতে ফিরে যাবেন তখন খুব মনে পড়বে ছবি দেখে।

উপরের তথ্য উপকারে আসলে কমেন্ট করে জানাবেন।আমাদের ফেসবুক ঠিকানা হলো Dhaka Magazine আপনার ভ্রমন শুভ হোক- ঢাকা ম্যাগাজিন

 

comments




Leave a Reply

Your email address will not be published.