Search

ঝুঁকিভাতা নিয়ে পুলিশের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে, নাই ওভারটাইম সিস্টেম

দেশে

SI recruitment 2015 preparation

SI recruitment 2015 preparation

সংঘাত, সহিংসতা বা যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ। অথচ মাঠপর্যায়ের সেসব পুলিশের দুঃখ ঝুঁকিভাতা নিয়েই। নতুন বেতন স্কেলের কল্যাণে জীবনযাত্রার মান আগের চেয়ে উন্নত হলেও ঝুঁকিভাতা নিয়ে ভীষণ অস্বস্তিতে আছে পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই পদের কর্মকর্তারা। বেতন কাঠামোয় পুলিশের সঙ্গে তুল্য কারারক্ষীরাও এ নিয়ে মানসিক পীড়নে ভুগছেন।

জানা গেছে, এর আগে কনস্টেবল পদবীধারীরা মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা পেতেন। সর্বশেষ ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় এখন ঝুঁকিভাতা পাবেন মাত্র ১৫শ টাকা। চাকরির বয়স ২০ বছর পেরিয়ে গেলে কনস্টেবলের ঝুঁকিভাতা বেড়ে দাঁড়াবে ৩ হাজার টাকা।

পুলিশের ঝুঁকিভাতা সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে দেখা গেছে, চাকরিতে যোগদান থেকে শুরু করে ৫ বছর পর্যন্ত একজন কনস্টেবল পাবেন ১৫শ টাকা ঝুঁকিভাতা। ৫-১০ বছর ১৮শ টাকা। ১০-১৫ বছর ২০০০ টাকা। ১৫-২০ বছর ২৫০০ টাকা। ২০ বছরের ঊর্ধ্বে ৩ হাজার টাকা। নায়েক পদবীধারী প্রথমে পাবেন ১৭শ টাকা। চাকরির বয়স ২০ বছরের ঊর্ধ্বে হলে পাবেন ৩৪শ টাকা। এএসআই পদে শুরুতে ১৮শ টাকা, শেষ হবে ৩৮শ টাকায়। দশম গ্রেডের এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআইরা শুরুতে পাবেন ২৭শ টাকা, শেষ ধাপে পাবেন ৫ হাজার ৪শ টাকা।

রাজধানীর শাহবাগ থানার এক পুলিশ সদস্য বলেন, নতুন বেতন স্কেল তৈরির আগে তারা মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা পেতেন। কিন্তু দিন দিন মাঠ পুলিশের ঝুঁকি বাড়লেও ঝুঁকিভাতা কমেছে। ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরতে চায়।

অন্যদিকে সরকার ঘোষিত ৫০ হাজার পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২০ হাজার নিয়োগ হয়ে গেলেও অন্তহীন সমস্যায় আছেন নিচের স্তরের সদস্যরা। আবাসন সংকট, নিম্নমানের খাবার ও পানি পান করে ডিউটি করছেন তারা। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ছুটি না পাওয়া, আবাসস্থলে মশা-ছাড়পোকার উপদ্রব তো রয়েছেই। এমন সব সমস্যায় জর্জরিত রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, মিরপুর পিওএমসহ রাজধানীর সব থানা।

পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশের সর্ববৃহৎ আবাসিক মেস রাজারবাগের ৮টি ব্যারাকে ১০টি কোম্পানি রয়েছে। কোম্পানি সদস্যদের জন্য দুটি ৬ তলা ও ৮টি ভবন আছে। এসব ভবনে যে পরিমাণ পুলিশ সদস্য থাকার কথা রয়েছে, এর চেয়েও কয়েকগুণ বেশি। এর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে নতুন নিয়োগ পাওয়াদের মধ্য থেকে ঢাকায় নিয়োজিত ৩৪৩ নারী ও সাড়ে ৪ হাজার পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া মিরপুর পিএমও থেকেও দাঙ্গা পুলিশের একটি টিম এসেছে রাজারবাগে। এ কারণে রাজারবাগের পুলিশ মেসে রাতের বেলা থাকা নিয়ে রীতিমতো হুলস্থূল অবস্থা সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি রাজারবাগ ব্যারাক ঘুরে দেখা যায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র। প্রতিটি ভবনে ওঠার জন্য ব্যবহৃত দ্বিমুখী সিঁড়ির পেছনের অংশে কাঠের চৌকি পেতে থাকছেন অনেক মাঠ পুলিশ সদস্য। কোনো কোনো ব্যারাকের নিচতলায় ফ্লোরেও থাকতে হচ্ছে তাদের। অনেকেরই ব্যক্তিগত স্টিলের ট্র্যাংকটি রেখেছেন আসা-যাওয়ার পথ বারান্দায়।

এক পুলিশ কনস্টেবল আক্ষেপ করে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘খালি আমাদের বিরুদ্ধেই তো লেখেন। কীভাবে থাকি, কোথায় থাকি, কী খাই- সেটি নিয়ে তো লেখেন না।’

কয়েক পুলিশ সদস্য জানান, বিয়ের জন্য আলাদা ছুটি দূরের কথা, বছরে বরাদ্দ থাকা ২০ দিন সিএল, ২৮ দিন এলইপির মধ্যে রাষ্ট্রের পরিস্থিতি ভালো না যুক্তিতে সারা বছরে মোট ১৫ দিনও পাওয়া যায় না। এ জন্য এজিবি, রেল, ব্যাংক কলোনির মতো পুলিশ কলোনিও সময়ের দাবি- বললেন রাজারবাগের একাধিক পুলিশ সদস্য। ব্যারাকের প্রতিটি মেসের খাবারেও সেই পুরনো অভিযোগ।

পুলিশ সদস্যরা জানান, একজন অবিবাহিত কনস্টেবল রেশনের ১৫শ ৫০ টাকার বিনিময়ে ব্যারাকের মেসে বিদেশি মানহীন দুর্গন্ধযুক্ত চাল, সিলভার কার্প, পাঙ্গাস মাছ দিয়ে তিনবেলা খেতে পারেন। ক্যান্টিন গড়ে উঠলেও আড়াই লাখ টাকায় পাওয়া ঠিকাদাররা বাণিজ্যিক হোটেলের মতো সেখানে ৪০ টাকায় গরুর মাংস, মাছ-মুরগিতে ৩০ টাকা আদায় করেন। ব্যারাকে এতদিন গভীর নলকূপের পানি সরবরাহ করা হলেও সম্প্রতি সেটি বন্ধ, মেরামতের উদ্যোগ নেই।

শুধু রাজারবাগ নয়, এমন অবস্থা পার্শ্ববর্তী পল্টন থানায়ও। ওই থানায় ৪০ জন, ৪৮ এএসআই ৪৮ জন ও ৫০-৬০ কনস্টেবল রয়েছেন। এর মধ্যে নারী সদস্যই ৪৫ জন। কিন্তু থানা কোয়ার্টারে বেড সংখ্যা মাত্র ৫০টি। এ অবস্থা রাজধানীর প্রতিটি থানায়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছেন পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যরা। সূত্র: আমাদের সময়।

comments