Search

ফিট থাকতে সাইক্লিং

ফিট থাকতে সাইক্লিং
ফিট থাকতে সাইক্লিং

ফিট থাকতে সাইক্লিং করুন নিয়মিত । জেনে রাখুন কি কি উপকার এবং নিয়ম কানুন

শরীর ভালো রাখতে সঠিক খাওয়াদাওয়া জরুরি। আবার ঠিক ততটাই জরুরি নিয়মিত ব্যায়াম করা। সুস্থ ও সবল থাকার জন্য গোসল, খাওয়া, ঘুমের মতোই ব্যায়ামকেও প্রাত্যহিক জীবনের অংশ করতে হবে। এজন্য আপনি বেছে নিতে পারেন সাইক্লিং। সাইক্লিং হলো সাঁতারের পর সবচেয়ে ভালো ব্যায়ামগুলোর একটি। সাঁতারের মতোই সারা শরীরের ব্যায়াম হয় সাইক্লিং করলে। তবে সাইক্লিং করার কিছু নিয়মনীতি আপনাকে মানতে হবে। নিজেকে ফিট রাখার জন্য সাইক্লিংয়ের নানা পরামর্শ নিয়ে এবারের মূল ফিচার।

 

আগে দেখা যেত, ছোট শিশুরা হাঁটা শেখার পর বাবা-মায়ের কাছে প্রথম যে জিনিসটি শখ করে চায় তা হচ্ছে একটি বাইসাইকেল। অনেকে স্কুলেও যায় সেই প্রিয় সাইকেল নিয়ে। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পছন্দের পরিবর্তন দেখা যায়। এখন চাই বাইসাইকেলের জায়গায় মোটরসাইকেল বা গাড়ি। তবে আজকাল বিভিন্ন আবাসিক এলাকার প্রশস্ত রাস্তায় তরুণ-তরুণীদের সকাল-সন্ধ্যায় সাইকেল চালিয়ে ব্যায়াম করতে দেখা যায়। এর কারণ হচ্ছে—তারা জানেন যে, সহজ ও কম খরচে সাইক্লিং হচ্ছে শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম। হার্ট ভালো রাখতে সাইকেল চালানো খুব ভালো উপায়। এর মাধ্যমে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়ে যায় তাই হার্ট ভালো থাকে। হাই ব্লাডপ্রেশার, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে সাইক্লিং। সাইক্লিং ওজন কমিয়ে, হেলদি ওয়েট মেইনটেন করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের ওজন একটু বেশি তাদের জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ করে সাইক্লিং। নিয়মিত সাইকেল চালালে হজমশক্তি বেড়ে গিয়ে বাড়তি ওজন ঝরে যায়। ফলে সমস্ত শরীরের সব অংশের ওপর সমান প্রভাব পড়ে।

 

সাইকেল চালানোর আরও একটা সুবিধা হলো, নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মানতে হয় না। সাইকেল চালানোর সময় কোমর, শরীরের

ফিট থাকতে সাইক্লিং
ফিট থাকতে সাইক্লিং

নিম্নাংশ, পায়ের মাসলেরও ওয়ার্কআউট হয়, যা জমে থাকা মেদ ঝরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। যদি নিয়মিত সাইকেল চালানোকে আপনার প্রতিদিনের এক্সারসাইজ রুটিনের অংশ করতে পারেন, তাহলে নিজেই তফাতটা বুঝতে পারবেন। মেদহীন ঝরঝরে শরীরের সঙ্গে মেজাজও ফুরফুরে থাকবে। ক্লান্তিও দূর হবে। সাইক্লিংয়ের উপকারিতা প্রতিদিন হয়তো ব্যায়াম করতে ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু তাই বলে মাঝে দু-একদিন ব্যায়াম করা বাদ দেবেন না। এমনভাবে সাজান যাতে ব্যায়াম করা কখনোই বোরিং মনে না হয়। আর ভারী ব্যায়াম হিসেবে বেছে নিতে পারেন সাইক্লিং।

 

অন্য যেকোনো ব্যায়ামের চেয়ে সাইক্লিং অনেক বেশি এনার্জেটিক এক্সারসাইজ। সাইকেল চালালে পুরো শরীরের ব্যায়াম হয়। হাত থেকে শুরু করে পা, কাঁধ ও শরীরের বাকি অংশ একটা নির্দিষ্ট রিদমে থাকে। পেশি শক্তিশালী করে :সাইক্লিং শুধু পায়ের ব্যায়াম নয়। নিয়মিত সাইকেল চালালে আমাদের শরীরের প্রতিটি পেশিতে চাপ পড়ে, ফলে পেশি সুগঠিত ও শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। হূদরোগের ঝুঁকি কমে :সাইক্লিং আমাদের হার্ট, ফুসফুস এবং রক্তচাপের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে। আর এভাবে হূদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হরাস পায়। কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি :আমাদের কাজ করার জন্য যে স্ট্যামিনা প্রয়োজন হয়, নিয়মিত সাইক্লিং থেকে আমরা সেই কর্মস্পৃহা পেয়ে থাকি। যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দ্রুত পৌঁছতে সাহায্য করে। চাপ কমায় :খোলা আকাশের নিচে, গাছে ঘেরা রাস্তায় সাইকেল চালালে প্রকৃতির সাথে আমাদের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এতে করে মাথা থেকে দুশ্চিন্তাগুলো বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে যায়। ফলে মানসিক চাপ কমানোর জন্য এটি খুব ভালো একটি উপায়। শরীরের মেদ কমে :নিয়মিত সাইক্লিংয়ে আমাদের শরীরের বাড়তি মেদ কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কার্ডিও সাইক্লিং :এর ফলে আমাদের শ্বাস এবং হার্ট বিট উন্নত হয়। সাইক্লিংকে এনজয় করুন বেশি স্পিডে সাইকেল না চালিয়ে সেটিকে এনজয় করার চেষ্টা করুন। কারণ এক্সারসাইজ যদি এনজয় না করেন, তা হলে কিন্তু কাজ মনে হয়, আর তখন সেটা করতে ইচ্ছা করে না।

 

সাইক্লিংয়ে স্ট্যামিনা বেড়ে যায়। সকালে যদি আধঘণ্টা সাইকেল চালাতে পারেন, তাহলে সারাদিনের কাজে এনার্জি পাবেন। সঙ্গে মুডও ভালো থাকবে। তবে সাইকেল চালাতে হবে নিয়মিত। একদিন-দুদিন সাইকেল চালালে কিন্তু কোনো লাভ হবে না। সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন তো বটেই। সকালে বা বিকেলে সুবিধামতো সময়ে সাইকেল চালাতে পারেন। তবে সাইকেল চালানোর আগে ওয়ার্মআপ এক্সারসাইজ করতে হবে। হাইট অনুযায়ী সঠিক মাপের সাইকেল আপনার হাইট অনুযায়ী সঠিক মাপের সাইকেল কিনবেন। সিটের লেন্থ আপনার সুবিধামতো অ্যাডজাস্ট করে নিন। রাস্তায় সাইকেল চালালে সব সময় হেলমেট পরুন।

 

ঢাকা শহরের বিশাল চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাইকেলকে নিয়মিত যান হিসেবে ব্যবহারের মাত্রা বাড়ছে। নিয়মনীতি না থাকা সত্ত্বেও মানুষের মাঝে একটা নতুন উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তাই এখনই সরকারি পর্যায় থেকে এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা ঠিক করা প্রয়োজন। দরদাম ফনিক্স, এমটিভি, হারকিউলিক্স, হিরো, ফায়ারফক্সসহ ভালো মানের একটি সাইকেল কিনতে পারবেন ৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়। ঢাকার গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, নিউমার্কেট, বংশালসহ দেশের ছোট-বড় সব শহরেই দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের সাইকেল পাওয়া যায়। সাবধানতা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সাইক্লিং করা সহজ নয়। এক্ষেত্রে নিজের সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইকেল কেনার সময় নিরাপত্তা গিয়ার ঠিক আছে কি না চেক করে নিন। সব সময় রাস্তার একপাশ দিয়ে সাইকেল চালাতে হবে। বাইসাইকেল চালালেও ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। কখনোই খুব দ্রুত সাইকেল চালানো যাবে না। হেলমেট ও গ্লাভস ব্যবহার করুন। সাইকেল চালানোর সময় অনেক ঘাম হয়। তাই ক্লান্তি দূর করতে সঙ্গে এক বোতল পানি বা জুস রাখুন।

comments




Leave a Reply

Your email address will not be published.