Search

বান্দরবান ভ্রমণ – Bandarban Tour

বান্দরবন ভ্রমন মানেই আপনার মানষিক প্রশান্তি । বিস্তারিত দেখে নেয়া যাক

বান্দরবান: বর্ষা মৌসুমে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র থেকে মেঘ ছোঁয়ার দুর্লভ সুযোগ রয়েছে। মেঘ আপনাকে ঘিরে ধরবে। আপনি মেঘের মধ্যে দারিয়ে থাকবেন। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরি থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র এটি। এটি সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। নিরপত্তা নিয়ে একদমই ভাববেন না। সময় নিয়ে যাবেন। একদিনেই দৌড়ে দৌড়ে সব কিছু দেখার চেষ্টা করবেন না। মেঘলা, শৈলপ্রপাত ঘুরে নীলাচলে অবস্থান নিন, বিকেল থেকে রাত কাটান মনে হবে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হলেও টাকা উঠে গেছে । এখানে কটেজ ভাড়া পাবেন ২০০০- ২৫০০ টাকার মধ্যে।

বান্দরবান ভ্রমণ - Bandarban Tour

বান্দরবান ভ্রমণ – Bandarban Tour

চট্টগ্রাম থেকে ৯২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে পাহাড়ী শহর বান্দরবান। বান্দরবান জেলা হচ্ছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এর আয়তন ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার। প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের অবারিত সবুজের সমারোহ এবং মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে যাদের আছে তারা বাংলাদেশের পাহাড়ী কন্যা বান্দরবান ঘুরে আসতে পারেন। চলুন জেনে নেই বিস্তারিত।

বান্দরবন ভ্রমনের স্থান সমুহ:

নীলগিরি, স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, শৈল প্রপাত, নীলাচল, মিলনছড়ি, চিম্বুক, সাঙ্গু নদী, তাজিনডং, কেওক্রাডং, জাদিপাই ঝরণা, বগালেক, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, প্রান্তিক লেক, ঋজুক জলপ্রপাত, নাফাখুম জলপ্রপাত, এছাড়া বান্দরবানে কয়েকটি ঝিরি রয়েছে। যেমনঃ চিংড়ি ঝিরি, পাতাং ঝিরি, রুমানাপাড়া ঝিরি।

যাতায়াত: চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান: বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে পূরবী এবং পূর্বাণী নামক দুটি ডাইরেক্ট নন এসি বাস আছে। ৩০ মিঃ পর পর বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতিঃ ১০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন: হোটেল ফোর স্টার : বান্দরবান সদর। সিঙ্গেল ৩০০ টাকা, ডাবল- ৬০০, ট্রিপল ৯০০ টাকা, এসি ডাবল- ১২০০ টাকা।, এসি ট্রিপল ১৫০০ টাকা।

হোটেল থ্রী স্টার : এটি বান্দরবান বাস স্টপের পাশে অবস্থিত। নীলগিরির গাড়ি এই হোটেলের সামনে থেকে ছাড়া হয়। এটি ৮/১০ জন থাকতে পারে ৪ বেডের এমন একটি ফ্ল্যাট। প্রতি নন এসি ফ্ল্যাট-২৫০০ টাকা, এসি-৩০০০ টাকা। হোটেল প্লাজা বান্দরবান, সদর/হোটেল গ্রিন হিল,বান্দরবান সদর/হোটেল হিল বার্ড বান্দরবান সদর।

নীলগিরি: নীলগিরি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র। এ পর্যটন কেন্দ্রের উচ্চতা প্রায় ৩ হাজার ফুট। এটি বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলায় অবস্থিত। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে এই পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। এ পর্বতের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত উপজাতী সম্প্রদায় ম্রো পল্লী। যাদের বিচিত্র সংস্কৃতি দেখার মত। বর্ষা মৌসুমে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র থেকে মেঘ ছোঁয়ার দুর্লভ সুযোগ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরি থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র এটি। এটি সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এর পাশেই রয়েছে একটি সেনা ক্যাম্প। নিরিবিলিতে সপরিবারে কয়েক দিন কাটাতে এটি একটি আদর্শ জায়গা।

Nilgiri Bandarban tour

Nilgiri Bandarban tour

যাতায়াত: পর্যটকদের নীলগিরি যেতে হলে বান্দরবান জেলা সদরের রুমা জীপস্টেশন থেকে থানছিগামী জীপ অথবা বাসে করে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া যায়। বান্দরবান জীপ স্টেশন থেকে জীপ, ল্যান্ড রোভার, ল্যান্ড ক্রুজারসহ অন্যান্য হালকা গাড়ি ভাড়ায় পাওয়া যায়। নীলগিরি যাওয়ার পথে সেনা চেকপোস্টে পর্যটকদের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। বান্দরবান জেলা সদর থেকে সাধারণত বিকেল ৫ টার পর নীলগিরির উদ্দেশে কোন গাড়ি যেতে দেয়া হয় না।

ভাড়া: সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্ধারিত আসা-যাওয়া-ছোট জীপ: (৫সিট) ২৩০০ টাকা এবং বড় জীপ (৮সিট) ২৮০০ টাকা।

নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে বান্দরবান জেলা সদর থেকে দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসা যায়। এ ছাড়া নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে রাত্রি যাপনের জন্য বান্দরবান সদর সেনা রিজিয়নে বুকিং দেয়া যায়। তাছাড়া নীলগিরি পর্যটনে গিয়ে সরাসরি বুকিং করা যায়। বান্দরবান জেলা সদর থেকে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় অধিকাংশ পর্যটক দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসেন।

স্বর্ণমন্দির: বান্দরবানের উপশহর বালাঘাটাস্থ পুল পাড়া নামক স্থানে এর অবস্থান। বান্দরবান জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। সুউচ্চ পাহাড়ের চুড়ার তৈরি সুদৃশ্য এ প্যাগোডা। এটি বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান । এখানে দেশ বিদেশ থেকে অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেখতে এবং প্রার্থনা করতে আসেন। এর অপর নাম মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বুদ্ধধাতু চেতী। গৌতমবুদ্ধের সম-সাময়িক কালে নির্মিত বিশ্বের সেরা কয়েকটি বুদ্ধ মুর্তির মধ্যে একটি এখানে রয়েছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। এই প্যাগোডাটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেরা গুলোর মধ্যে অন্যতম। এই সুউচ্চ পাহাড়ের উপর দেবতা পুকুর নামে একটি পানি সম্বলিত ছোট পুকুর আছে।

Sorno Mondir Bandarban

Sorno Mondir Bandarban

এই প্যাগোডা থেকে বান্দরবানের বালাঘাটা উপশহর ও এর আশপাশের সুন্দর নৈসর্গিকদৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া বান্দরবান রেডিও স্টেশন, বান্দরবান চন্দ্রঘোনা যাওয়ার আঁকাবাঁকা পথও দর্শনীয়। এই প্যাগোডা একটি আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এখানে মেলা বসে। এই প্যাগোডা স্বর্ণ মন্দির হিসেবেও পরিচিত। এ প্যাগোডাটি পুজারীদের জন্য সারাদিন খোলা থাকে আর ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থীদের জন্য বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয় । প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ১০/-।

রিক্সা অথবা টেক্সি করে যাওয়া যায় । রিক্সা ৩০-৩৫ টাকা এবং টেক্সি রিজার্ভ ১১০-১৩০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত এখানে গাড়ি চলাচল করে।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র: বান্দরবান শহরের প্রবেশদ্বার বান্দরবান কেরাণীহাট সড়কের পাশেই পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স অবস্থিত। পাহাড়ের খাদে বাঁধ নির্মাণ করে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি করা হয়েছে । বান্দরবান শহর থেকে এর দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। বেড়াতে আসা পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে শিশুপার্ক, নৌকা ভ্রমণের সুবিধা, ঝুলন্ত সেতুর মাধ্যমে চলাচলের ব্যবস্থা এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য একটি রেস্টহাউস। এছাড়া আকর্ষণীয় একটি চিড়িয়াখানা এ কমপ্লেক্সের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ। মেঘলায় ২টি ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে। জনপ্রতি ১০/- মূল্যে টিকেট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয়। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে সারা দেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে আসেন। নিরিবিলিতে সপরিবারে বেড়ানোর জন্য একটি আদর্শ জায়গা।

Bandarban Tour

Bandarban Tour

যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়া: মেঘলায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের খাবার ও রাত্রিযাপনের জন্য বান্দরবান শহরে কিছু মাঝারি মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের জন্য খাবার ও রাত্রিযাপনের জন্য পাশেই সু-ব্যবস্থা রয়েছে। মেঘলার পাশেই রয়েছে বান্দরবান পর্যটন মোটেল ও হলিডে ইন নামে দুইটি আধুনিক মানের পর্যটন কমপ্লেক্স। এখানে এসি ও নন এসি রুমসহ রাত্রি যাপন ও উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। ফোনঃ ৬২৯১৯। বান্দরবান বাস স্টেশন থেকে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স যেতে লোকাল বাসে জনপ্রতি ১০-১২ টাকা এবং টেক্সি রিজার্ভ ১০০-১২০ টাকা, এবং ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার ও চাঁদের গাড়ি ৪৫০-৫০০/- টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।

বান্দরবনে পর্যটন কর্পোরেশনের একটি হোটেল আছে মেঘলাতে।

যার ভাড়া রুম প্রতি ৭৫০ হতে ২০০০টাকা পর্যন্ত।

হলিডে ইন (মেঘলা), জেনারেল রুম ১০০০ টাকা, নন এসি ১৩০০ টাকা, এসি ১৫০০ টাকা।

শৈল প্রপাত: বান্দরবান রুমা সড়কের ৮ কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি। ঝর্ণার হিমশীতল পানি এখানে সর্বদা বহমান। এই ঝর্ণার পানিগুলো খুবই স্বচ্ছ এবং হীম শীতল। বর্ষাকালে এ ঝর্ণার দৃশ্য দেখা গেলেও ঝর্ণাতে নামা দুস্কর, বছরের বেশীর ভাগ সময় দেশী বিদেশী পর্যটকে ভরপুর থাকে। রাস্তার পাশে শৈল প্রপাতের অবস্থান হওয়ায় এখানে পর্যটকদের ভিড় বেশী দেখা যায়। এখানে দুর্গম পাহাড়ের কোল ঘেষা আদিবাসী বম সম্প্রদায়ের সংগ্রামী জীবন প্রত্যক্ষ করা যায়।

যাতায়াত: বান্দরবান শহর থেকে টেক্সি, চাঁদের গাড়ি কিংবা প্রাইভেট কার ও জীপ ভাড়া করে শৈলপ্রপাতে যাওয়া যায়। শহর থেকে জীপ গাড়িতে ৬০০-৭০০ টাকা এবং চাঁদের গাড়িতে ৪৫০-৫০০ টাকা লাগবে।

নীলাচল ও শুভ্রনীলা : বান্দরবান জেলা শহরের নিকটবর্তী পর্যটন কেন্দ্র। জেলা সদরের প্রবেশ মুখ টাইগার পাড়ার নিকট পাশাপাশি অবস্থিত এ পর্যটন কেন্দ্র দুটি। নীলাচল জেলা প্রশাসন ও শুভ্রনীলা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় । এ পর্যটন কেন্দ্রের উচ্চতা প্রায় ১৭০০ ফুট। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে এই পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। পাহাড়ের উপর নির্মিত এ দুটি পর্যটন কেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য দেখতে খুবই মনোরম।

যাতায়াত: বান্দরবান শহরের বাস স্টেশন থেকে জীপ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার ভাড়া নিয়ে যেতে হবে অথবা বান্দরবান শহরের সাঙ্গু ব্রীজের কাছে টেক্সি স্টেশন থেকে টেক্সি ভাড়া নিয়ে নীলাচল ও শুভ্রনীলায় যেতে পারেন । জীপ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার ৬০০-৭০০/-, টেক্সি ৩০০/- নিয়ে থাকে।

অপরুপ রাইক্ষাং পুকুরপাড়া

অপরুপ রাইক্ষাং পুকুরপাড়া

অপরুপ রাইক্ষাং পুকুরপাড়া

মিলনছড়ি: মিলনছড়ি বান্দরবান শহর হতে ৩ কি:মি: দক্ষিণ পূর্বে শৈল প্রপাত বা চিম্বুক যাওয়ার পথে পড়ে। এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি আছে। পাহাড়ের অতি উচ্চতায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পূর্ব প্রান্তে অবারিত সবুজের খেলা এবং সবুজ প্রকৃতির বুক চিড়ে সর্পিল গতিতে বয়ে সাঙ্গু নামক মোহনীয় নদীটি।

চিম্বুক: বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত। চিম্বুক সারা দেশের কাছে পরিচিত নাম। বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫০০ শত ফুট। চিম্বুক যাওয়ার রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ি দৃশ্য খুবই মনোরম। চিম্বুক যাওয়ার পথে সাঙ্গু নদী চোখে পড়ে। পাহাড়ের মাঝে আঁকা বাঁকা পথ বেয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক দিয়ে এতে যাতায়াতে মনে হবে গাড়িতে করে চাঁদের বুকে পাড়ি জমানোর অনুভূতি। ২৫০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে অপরূপ বিচিত্র দৃশ্য দেখতে পাবেন চিম্বুকে।

চিম্বুক পাহাড় থেকে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের নিচ দিয়ে মেঘ ভেসে যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা যায়।এখান থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এর বিভিন্ন উপজেলাগুলোকে দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে চিম্বুক পাহাড়ের পাশ দিয়ে ভেসে যাওয়া মেঘ দেখে মনে হয় মেঘের স্বর্গরাজ্য চিম্বুক। মেঘের হালকা হিম ছোঁয়া যেন মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি। চিম্বুককে বাংলার দার্জিলিং বলা হয়।

চিম্বুক থানছি সড়কের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে হোটেল বা রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠেনি। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি রেস্টহাউস আছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে রাত্রি যাপনের সুযোগ রয়েছে। চিম্বুকের পাশে সেনাবাহিনীর ক্যান্টিন রয়েছে। এখানে সকালের নাস্তা ও দুপুরে খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া খাবারের জন্য বান্দরবান থেকে চিম্বুক যাওয়ার পথে মিলনছড়ি ও শাকুরা নামে ২টি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। চিম্বুক যাওয়ার পথে বান্দরবান থেকে হালকা খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে যাওয়াই উত্তম।

যাতায়াত: চিম্বুক যেতে হলে বান্দরবান শহরের রুমা বাস স্টেশন থেকে চাঁদের গাড়ি হিসেবে পরিচিত জীপ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, পাজেরো এবং বান্দরবান-থানছি পথে যাতায়াতকারী বাস ভাড়া নিতে হবে (স্পেশাল বাস যা দূর্গম পাহাড়ী পথে চলাচল করতে সক্ষম)। নিজস্ব গাড়ি হলে ভাল হয়। রাস্তা অত্যন্ত দূর্গম হওয়ায় বাসে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ। চাঁদের গাড়িতে জন প্রতি ১০০-১৫০ টাকা এবং ল্যান্ড ত্রুজার রিজার্ভ ১৭০০-১৮০০/-, ল্যান্ড ক্রুজার, পাজেরো ২১০০-২২০০/- টাকা নিয়ে থাকে। চিম্বুক থানছি পথে বিকেল ৪ টার পরে কোন গাড়ি চলাচল করে না বিধায় পর্যটকদের ৪ টার মধ্যে ফিরে আসা উচিত।

 

বগালেক : চারিদিকে পাহাড়ে ঘেড়া আর মাঝে একটা লেক। কি অপরুপ প্রকৃতির লীলাখেলা। এখানে থাকতে পারবেন বাসের তৈরি ঘরে মাত্র ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা করে। কয়েকটি দোকান আছে উপজাতীয় খ্রিষ্টানদের। এদের তৈরি খাবার খেতে পারবেন। পাশেই সেনা পাহাড়া থাকায় কোন নিরাপত্তা সমস্যা নেই। তাছাড়া কোন রেকর্ড পাওয়া যায় না নিরাপত্তা সমস্যার।

যাতায়াত : রুমা থেকে ২২ কিমি দুরে অবস্থিত। অর্থাৎ বান্দনবান শহর থেকে ৪২ কিমি দুরে রুমা থানা। আর রুমা থেকে ২২ কিমি বগালেক। রুমা থেকে চাদের গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় ৪৫০০- ৫০০০ টাকা রিজার্ভ। এমতিতে চলাচলের গাড়ি পাবেন না। পুরো সিজনের সময় পেতে পারেন। তখন ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। যদি ফেরেন তবে সন্ধার আগেই ফেরা উতিৎ। কারন রাস্তা গুলোতে গাড়ি খুব ভয়ংকর উচু দিয়ে চলে। পাহাড়ের কোল ঘেষে।

Boga Lake Bandarban Tour

Boga Lake Bandarban Tour

 

এই রকম ভ্রমণ করতে গেলে
কি কি নিতে হবে- Thinks to Carry
১) ব্যাগ- Bag
২) গামছা- Gamsa
৩) ছাতা- Umbrella/ রেইন কোর্ট- Raincoat
৪) তাবু
৫) অতিরিক্ত 2(দুই) সেট কাপড়- Extra 2 Set Clot( থ্রি-কোয়টার প্যান্ট+ ফুল হাতা টি-শার্ট+ পাতলা জ্যাকেট+ স্লিপিং ব্যাগ+ )
৬) পানির বোতল- Water Bottle
৭) মানকি ক্যাপ (Monky Cap)
৮) রাবার / প্লাষ্টিক স্যান্ডেল/কেডস/ মোটা মোজা (Shocks )
৯) গ্লাভস ( Gloves )
১০) পলিথিন (Polythin)
১১) সানক্যাপ (Cap)
১২) সানগ্লাস (Sunglasse )
১৩) সানস্কিন ( Sun)
১৪) টিস্যু (Tissue )
১৫) ব্যক্তিগত ঔষধ (Personal Medicine )
১৬) টর্চ লাইট (Torch )
১৭) ক্যামেরা+ব্যাটারী+ র্চাজার (Camera ++)
১৮) মাল্টিপ্লাগ (Multiplug )
১৯) শীতের কাপড়
২০) নিক্যাপ/ এনক্লেট

comments