Search

র‌্যাবের সেই এসআই খালেকুজ্জামান হাসপাতালে

র্যাব বাংলাদেশ পুলিশের ১২ টি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিট। এটি পুলিশের ইউনিট হলেও আইন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ সেনা বাহিনী অফিসারগন এটির কর্তৃত্ব করেন। আর পুলিশ এখানে নিজ বাহিনীতে আশ্রিত হয়ে আছেন। সেনা কর্মকর্তারা পরগাছা হলেও তারাই এখানে পরিচালক হয়ে বসে আসেন।

র‌্যাবের সেই এসআই খালেকুজ্জামান

র‌্যাবের সেই এসআই খালেকুজ্জামান

২০১০ ব্যাচের এসআই খালেকুজ্জামান ডিএডি এর কথা মত গাড়ির পিছনে না বসে লাখো পুলিশের মনের কথার প্রকাশ ঘটিয়েছেন যার প্রমান গত এক সপ্তাহের ফেসবুক ভাইরাল।

সবাই জানে সেনা বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনী  কেউ কাউকে দেখতে পারেনা, অসহ্য বোধ করে। পুলিশের আইজি স্যারও জানে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী স্যারে রাও জানার কথা। তাহলে তারা দা কুমড়া এক স্থানে না রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

দুইটা বাহিনীর নিয়োগের ধরণ আলাদা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্ন, প্রশিক্ষণ ভিন্ন, ডেইলি কাজের ধরন ভিন্ন, সুযোগ সুবিধা ভিন্ন, পুলিশ পাবলিক নিয়ে কাজ করে, সেনাবাহিনীর পাবলিকের সাথে মেশাই নিষেধ। এত ভিন্নতা থাকার পর দুই বাহিনীকে এক স্থানে কাজ করতে দেয়া কতটা নিরাপদ তা নিয়ে আজ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নতুন কোন বিদ্রোহ না হোক সেটাই চাইছেন সবাই।

সিনিয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী র‌্যাবের পিকআপ ভ্যানের পেছনে না বসায় সম্প্রতি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয় র‌্যাব-১৪ এর ভৈরব ক্যাম্পে কর্মরত এসআই খালেকুজ্জামানকে। গত বৃহস্পতিবার এই নোটিশের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছেন পুলিশের এসআই ও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।

শনিবার (১৮ নভেম্বর) শোকজের উত্তর দেয়ার দিন ধার্য থাকলেও তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকালে ভর্তি হন রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন হাসপাতালে।

শনিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তাকে হাসপাতালের ৪নং (মেডিসিন) ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন এক কর্মকর্তা। তবে তিনি তার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

গত বুধবার টহলরত অবস্থায় র‌্যাবের কমান্ডার ডিএডি মো. শাহীন মিয়া এসআই খালেকুজ্জামানকে গাড়ির পেছনে বসার নির্দেশ দেন। তবে পুলিশের কনস্টেবল পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পেছনে বসার বিধান থাকায় এসআই খালেকুজ্জামান পেছনে বসতে অস্বীকৃতি জানান। র‌্যাব সদর দফতরের পরিপন্থী কাজ করায় কেন তাকে শাস্তি দেয়া হবে না- এই মর্মে শনিবারের (১৮ নভেম্বর) মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

শুক্রবার সকালে এই নোটিশটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। বিশেষ করে পুলিশের এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তারা র‌্যাবের সমালোচনা করে বিভিন্ন পোস্ট দেন। এছাড়াও তারা পুলিশের এসআইদের নিয়ে র্যাবের ফ্যাটিগ ডিউটি করানোর অভিযোগ করেন।

একটি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এসআই খালেকুজ্জামানকে ভৈরব ক্যাম্পে নিয়মিত ডিউটি থেকে ক্লোজ করা হয়। পোশাক ছেড়ে ও হাতিয়ার জমা দিয়ে সাধারণ কাপড়ে তাকে কসবা এলাকায় যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে পোশাক ছেড়ে অস্ত্র জমা দিয়ে সিসি নিতে গিয়ে দেখেন তার গন্তব্যস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া লেখা।

কোম্পানি কমান্ডার ছুটিতে থাকায় কেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জায়গায় তাকে কসবায় যেতে হলো- এ বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি খালেকুজ্জামান। আগে থেকেই উচ্চরক্তচাপে ভুগছিলেন তিনি, বুকে ব্যথা অনুভব করেন। প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল এবং পরে তাকে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

http://dhakamagazine.com/wp-admin/post.php?action=edit&post=3456

এসআই খালেকুজ্জামানের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। ২০১০ সালে তিনি এসআই হিসেবে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। এক বছর নয় মাস ধরে তিনি র‌্যাবে কর্মরত আছেন।

comments