Search

‘সকল কোঠা বাতিল চাই’ ( মেধা মূল্যায়ন চত্তরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানেরা )

bcs movment dhaka
shahbag bcs movement

আমি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান বলতেই আজ লজ্জ্বা পাই, মনে হয় এটা কোন পঙ্গু কোঠা’ বলছিলেন পাবলিক লাইব্রেরীতে পড়তে আসা মুক্তি সন্তান অপুর্ব। এদিকে এই আন্দোলন থামাতে সরকার ২৭ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১২ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে যাতে করে ছাত্র-ছাত্রী সংকটে এখানেই শেষ হয়। চারিদিক থেকে এমনিতেই সরকার চরম বিপাকে আছে।

ঢাকা কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র সোহেল বলছিলেন ‘সরকার যদি মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধা দিতেই চায় তবে তাকেই দিক, প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্র  বাড়ি করে দিক, তাদেরকে দেখা শোনার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করুক কিন্তু একজন সন্তান মুক্তিযোদ্ধার ঘরে জন্মগ্রহন করেই ক্রেডিট অর্জন করল আর আমি একজন অমুক্তিযোদ্ধার ঘরে জন্ম নিয়েই পিছিয়ে পড়লাম এটা রাষ্টীয় বৈশম্য একজন মুক্তিযোদ্ধা কখনোই সুবিধার কথা ভেবে যুদ্ধ করেনি, সকল কোঠা পদ্ধতি এখনই তুলে দেয়া দরকার আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য।’

৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার্থীরা চার দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গতকালের ন্যায় আজ বৃহস্পতিবারও সকাল ১১টায় শাহবাগে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এসময় তারা টিএসসি’র দিকে পালিয়ে যায়। কিছু ছাত্র পাকলিক লাইব্রেরীর গেটের ভেতরে অবস্থান নেয়। মিনিট দশেক পর শিক্ষার্থীরা আবারো মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে শাহবাগ এলাকায় প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শাহবাগ মোড়ে গাড়ি চলাচল করছেন না। থেমে থেমে বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা করছে শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গতকাল বুধবার সকাল ১০টা শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে অনুত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিসিএস পরীক্ষায় ৫৫ ভাগই নিয়োগ দেয়া হয় কোটা পদ্ধতিতে। এতদিন প্রিলিমিনারী ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোটায় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হত। কিন্তু এবার প্রিলিমিনারী পরীক্ষাতেই কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করায় হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী বঞ্চিত হওয়ার শংকা তৈরি হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি হলেও উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। ৩৩তম বিসিএস-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২৮ হাজারের বেশি প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। অথচ এবার বেশি সংখ্যক প্রার্থী হলেও উত্তীর্ণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৩৩ জনকে। এটি অসত্ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে তরুণ-তরুণীরা অভিযোগ করেছেন।

এদিকে কোটা পদ্ধতিতে আবেদনকারীদের উত্তীর্ণ করাতে পরীক্ষার কাট নম্বরেও (একটি নির্দিষ্ট নম্বর যার বেশি পেলে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়) তারতম্য ঘটনো হয়েছে বলে প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন। কোটায় আবেদনকারীরা ৫৮ থেকে ৬০ পেয়ে উত্তীর্ণ হলেও সাধারণ প্রার্থীরা ৭৬ থেকে ৭৯ পেয়েও উত্তীর্ণ হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ৩৪তম বিসিএস-এর দায়িত্বে থাকা পিএসসির সদস্য মুহম্মদ লিয়াকত আলী খান ইত্তেফাককে বলেন, মৌখিক পরীক্ষার পর কোটা ঠিক করতে গিয়ে দেখা যায় অনেক পদ শূন্য পড়ে থাকে। প্রার্থী থাকে না। সে কারণে এবার প্রিলিমিনারি পর্যায় থেকেই যে কোটায় যতগুলো পদ আছে তার বিপরীতে প্রার্থী নেয়া হয়েছে। তবে কোটাধারী এবং সাধারণ প্রার্থীদের কাট নম্বর একই রাখা হয় বলে তিনি দাবি করেন। গতকাল বিকালে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আ ই ম নেছারউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘৩৪তম বিসিএস-এর প্রিলিমিনারির ফলাফল নিয়ে কিছু সংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

comments




One thought on “‘সকল কোঠা বাতিল চাই’ ( মেধা মূল্যায়ন চত্তরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানেরা )

  1. মো:মোবারক হোসেন

    ঢাকা ম্যাগাজিন কে সাধুবাদ জানাই একটি যুগোপযোগী মতামত প্রকাশের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.