Search

১৩ বৎসরের রুবার ভালবাসা ও পরিনতি

১৩ বৎসরের রুবার ভালবাসা ও পরিনতি

১৩ বৎসরের রুবার ভালবাসা ও পরিনতি

প্রথম প্রকাশ  www.DhakaMagazine.com

লেখক : অচিন্তনীয়

পড়ুন এবং শেয়ার করুন

রুবা এক সুন্দরী গার্মেন্টস কর্মী মেয়ে । বয়স ১৩ বৎসর। ৩ মাস হলো এখানে কাজ করছে। প্রথম দিন থেকেই তাকে দিদারের হেলপার হিসেবে দেয়া হয়েছে। দি্দার যে কাপড় সেলাই করে সেটি অন্য হাত ঘুরে যখন দিদারের সেলাই মেসিনের (Jack) সামনে পরে তার কাজটুকো করার জন্য জন্য ফ্লোর থেকে কাপড়টা তুলে দেওয়াই রুবার কাজ। সুন্দরী হওয়ায় সকল ছেলেদের নজরে আসে রুবা।

প্রতিদিন লান্সের সময় এ ছেলে সে ছেলে কাছে এসে “ রুবা খাবার এনেছো ? চলো আজ আমরা দুজন একসাথে খাই, চলো আজ আমার খাবার খাই” ইত্যাদি। রুবার ওস্তাদ হলো দিদার, তার কাছ থেকেই কাজ শিখছে প্রতিদিন। দিদার ভাই যদি মাইন্ড করে তাই কারোর সাথে না গিয়ে তার সাথেই খেতে যাই। আমার খাবার আমি খেতে চাই কিন্তু দিদার ভাই তার খাবার আমাকে দেয়, আমার খাবার সেও নেয়। মানে লেনা দেনা করে খাওয়া হয়। প্রথমে খারাপ লাগলেও দিদার ভাই আমার এত টেক কেয়ার করে যে এখন অনেক ইজি মনে হয়।

আমাদের ফ্লোরটার এপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত সবাই বলাবলি করে তার সাথে আমার কিছু একটা হয়ে গেছে। সন্ধায় গার্মেন্টস ছুটির পর দিদার ভাই আমাকে রোজ রিক্সায় করে বাসায় পৌছে দেয়। খালার বাড়ি। আমার বাবা মা গ্রামে থাকে। খালাই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে দুমুঠো খেয়ে বাচব বলে। রিক্সায় ওঠার আগে চিপস, ঠান্ডা, বাসায় গিয়ে আমার খাওয়ার জন্য লাভ ক্যান্ডি কিনে নিত। কাছাকাছি পথ দিয়ে না গিয়ে একটু এপথ ওপথ হয়ে নিয়ে যেত। দিদার ভাইয়ের মোবাইলে রোমান্টিক গান ছেরে হেডফোনের একপাশ আমার কানে অন্যটা দিদার ভাইয়ের কানে থাকত। আমার খুব ভাল লাগত।

এভাবে অনেক ছেলের মাঝে তিনি আমার খুব কাছের হয়ে উঠলেন। মাস খানেক পরে একটা পুরাতন মোবাইল দিল আমাকে। বলল রাতে দরকারি কথা বলবে। কিন্তু কোন দরকারি না আমরা এমনিতেই কথা বলতাম রাতে। একসময় আমার অজান্তেই তার সাথে অনেক ক্লোজ হয়ে যাই। তাকে ছাড়া ভাল লাগত না।

দিদার ভাই খুব স্টাইলিস ছেলে। চুলের কাট  পেছনের দিকে শিল্পী আরফিন রুমির চুলের  মত লম্বা করা। আমাকে অনেক মেয়ে বলেছে ওর থেকে দুরে থাকতে। ও নাকি আরো অনেক মেয়ের সাথে ভালবাসা করেছিল। কিন্তু কয়দিন পরে ভুলে গেছে। আমি বিশ্বাস করিনি ।
বিভিন্ন স্থানে আমাকে বন্ধের দিন ঘুরতে নিয়ে যায়। একটু আধটু করে করে করে আমরা অনেক ঘনিষ্ট হয়েছি। আমাকে বিয়ে করবে সামনে বছর বলেছে।

দুমাস পার হয়েছে ……….

আমরা এখন অনেক কাছের। ওর একটা বন্ধু জিহান প্রায়ই সন্ধায় গার্মেন্টস ছুটির সময় দেখা করতে আসে। । তাদের বাসা এখান থেকে দুরের পথ নয়। আমার সাথে অনেক ভাল পরিচয় আছে এখন। জিহান ভাই জিজ্ঞাসা করে আমরা কবে বিয়ে করব। জিহান ভাই সকল ব্যাবস্থা করবে । সব মিলিয়ে খুব ভাল জিহান ভাই।

একদিন সন্ধায়….
জিহান ভাই বলল আজ আমাদের বাসায় চলো দুজনই, তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারিনা। আজ দুমুঠো ডালভাত খাবে চলো। আমি কোন মতেই যাবনা। আমার খালা রাগ করবে দেরি হলে। দিদার বললো চলো ওর বাড়িতে দেরি না করে তারাতারি পৌছে দিব। বলতে বলতে সিএনজি ঠিক করে আমার অনিচ্ছা সর্ত্তেও নিয়ে চলল জিহান ভাইয়ের বাসায়। ১০ মিনিটে পৌছে গেলাম। ২য় তলায় থাকে জিহান ভাইদের ফ্যামিলি। বাসায় গিয়ে দেখি কেউ নাই। বাসায় কোন রান্নাও হয়নি। প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে রেখেছে। আমার ইচ্ছাতেই তারাতারি খেতে বসলাম বাসায় যাব বলে। খাবার শেষ করার পর আমার হাতে পূর্বেই খোলা 7 Up এর বতল খুলে আমাকে খেতে দিল। দিদার আর জিহান ভাইও নিল। কিছুক্ষন পরে আমার পেট ব্যাথা করছিল। আমি দিদারকে আমার সমস্যার কথা বললাল। দিদার জিহানকে বলা মাত্রই ঔষুধের দোকানে গিয়ে ব্যাথার ট্যাবলেট নিয়ে আসল। আমাকে পানি দিল খাওয়ার জন্য দিদার।

আমি এটি খাওয়ার পরই খুব ঘুম পাচ্ছিল হঠাৎ করে। আমাকে বিছানায় দিয়ে আসল ওরা। ঘুম আর চেতনার মাঝামাঝি এক স্তরে অবস্থান করছিলাম। দিদার তার মোবাইল দিয়ে কি যেন করছিল আর আমার কাপড়, দেহের বিভিন্ন স্থানে হাত দিচ্ছিল বুঝতে পারছিলাম কিন্তু বাধা দেওয়ার মত শক্তি আমার তখন ছিলনা। তাছাড়া দিদার আগেও আমার গায়ে হাত দিয়েছে। তাই বাধা দেওয়ার ইচ্ছোও ছিলনা। কিন্তু সে তার অন্যদিনের মাত্রা অতিক্রম করেই চলছিল। আর আমি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিলাম। আমার পরনে কিছুই রাখেনি। আমি বুঝতে পারছিলাম দিদার আমাকে ………………………. । আমি আর কিছুই জানিনা। মানে স্বরণে নাই।
পরদিন ১২:৩০ ঘটিকায় ঘুম ভেঙ্গে দেখি আমাকে যে রুমে ঘুমাতে নিয়ে গিয়েছিল এটি সেই রুম নয়। এটি পাশের রুম। রুমে কেউ নেই। আমার পোশাকও নেই রুমে। বিছানার চাদর তুলে নিজের গায়ে পেচিয়ে পাশের রুমে ‍গিয়ে দেখি আমার দিদারের হাত-পা বাধা। চোখে কান্নার পানি শুকিয়ে গেছে। আমি নিজের পোশাক পরব নাকি ওর বাধন খুলে দেব, নাকি আমার বাসায় আমাকে না পেয়ে খালারই কি অবস্থা সেদিকে যাব। যাইহোক আমি ওর বাধন খুলে দিয়ে আমার পোশাক পরে নিলাম।

কিন্তু একটা ব্যাপার আমার মাথায় ঢুকছিলনা দিদারকে বেধে রাখল কে ? আর ওর চোখে কান্নার পানি কেন। আমার বারবার প্রশ্নের মুখে দিদার বলল জিহান তোমাকে ব্যাথার ওষুধ দেয়নি এটি ছিল ঘুমের ওষুধ। জিহান আর আমি এটি আগেই বুদ্ধি করে রেখেছিলাম। কিন্তু জিহান মধ্য রাতে আমাকে বলে, সেও তোমাকে এই রাতে কাছে চায়। আমি কোন মতেই রাজি হইনি। আমি বলেছি তোমাকে যে আমি বিয়ে করবনা ঠিক কিন্তু যদি কোনদিন কোন কারনে করতে হয় তাহলে ? আমি একাজ করতে দেইনি জিহানকে।

এরপর জিহান বাসার বাইরে চলে যায়। রাত ২ টার দিকে জিহান আবার ফেরত আসে। তার আরেক বন্ধু সাথে। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা আমাকে ( দিদারকে ) বেধে ফেলে। তারপর ওরা তোমাকে (রুবাকে) পাশের রুমে নিয়ে যায়। ওরা দুজন সারারাত তোমার ঘুমন্ত শরীরটার উপর ……………………..

আমি আর কিছুই বলতে পারছিলাম না। সোজা খালার বাসার দিকে হাটা দিলাম। বাসায় পৌছার পর খালা খালু জানতে চায় কোথায় ছিলাম। বলতে না পেরে চুপ ছিলাম। এক পর্যায়ে খালা আমাকে মারতেছিল আর বলতেছিল যে “তুই নাকি দিদারের সাথে সিএনজিতে উঠে কোথায় গিয়েছিলি ?” বুঝলাম খালা খালু আজ সকালে গার্মেন্টসে খোজ করে এসব জানতে পেরেছে। এক পর্যায়ে খালা আমাকে সন্দেহ করে আমারে ঘরের ভেতর নিয়ে আমার শরীর , কাপড়-চোপড় ইত্যাদি দেখে বুঝতে পারল আমার সর্বনাশ হয়েছে। তখন মারের চোটে আমি টিকতে না পেরে সব খুলে বলি।

 

গরিব মানুষ থানা ফাঁড়ীতে যাওয়ার মত ইচ্ছা বা অর্থ কোনটাই নাই। তাই সন্ধা পর্যন্ত অপেক্ষা করে আমাকে সঙ্গে নিয়ে জিহানের বাসার সামনে গেল। দেখা গেল তারা দুজনেই ( দিদার ও জিহান ) সেই বাসাটির সামনে দাড়িয়ে আছে। খালু তাদের জিজ্ঞাসা করল আমি কোথায় ছিলাম? কি হয়েছিল রাতে আমার সাথে ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে বলে রাখা ভাল খালুকে মনে হয়েছে যে ঔ সময় ২/১ হাজার টাকা দিলেই খুশি মনে ফিরে আসত। যাইহোক খালু তাদের এসব জিজ্ঞাসা করার পর দুজন মিলে অস্বীকার করে। আমাকে চিনেনা বলে জানায়। আমি অবাক দিদার আমাকে চিনেনা ! তখন মনে হলো এসবই প্লান করে করা ছিল। তিনজন মিলে ধর্ষণ করার প্লান। খালু যখন বার জিজ্ঞেস করছিল তখন এক পর্যায়ে তারা খালুকে মাইর শুরু করে। মাথায় মেরে তাকে রক্তাক্ত করে এবং হুমকি দেয় যে আবার কোনদিন কিছু বললে জানে মেরে ফেলবে।

ব্যাস আর অপেক্ষা না করে খালু থানায় গেল আমাকে নিয়ে। পুলিশকে ৩০০ টাকা ঘুষ দিয়ে ধর্ষণ মামলা করল। রাত ১২ টায় আমাদের সঙ্গে নিয়ে তাদের ধরার জন্য বের হলো। জিহানদের বাসার অনেক আগে থেকেই সিভিল ড্রেসের পুলিশ পায়ে হেটে চলল তাদের উপস্থিতি যেন টের না পায় তাই। বাসার সামনে গিয়ে দেখি তখনও দুজন দাড়িয়ে আছে।  দেখিয়ে দেওয়া মাত্রেই দিদারকে পুলিশ ধরে ফেলল, জিহান দৌড়াল। প্রায় ১ কিমি রেস করে জিহানকে এক পুলিশ ধরে ফেলল।

থানায় হাজির করার পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুরো অস্বীকার করল। মেয়েটিকে তারা কিছুই করেনি। উল্টে দিদার বলে “ আমি একটু হ্যান্ডসাম হওয়ায় মেয়েটি আমাকে প্রস্তাব দিত। রাজি হইনি তাই হয়ত আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।” আবার বলে বিশ্বাস না হলে ডি এন এ টেষ্ট করেন। যাই হোক তাদের হাজতে রাখা হল। পরদিন সকালে ছেলে দুটির নিকট থেকে জব্দকৃত মোবাইল ফোন চেক করে ঘুমন্ত আমার সাথে তাদের দুজনের অনেক খারাপ ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেল। শুধু তাই নয় তাদের মোবাইলে আরো অনেক মেয়ের সাথে এই দুজনের ধারনকৃত খারাপ ভিডিও পাওয়া যায়। ঔ সকল মেয়েও অচেতন অবস্থায় দেখা গেল। মানে এটি তাদের পদ্ধতি। ৩য় ব্যাক্তি কেউ নাই, এটি গল্প বানানো হতে পারে, কারন এই দুজন ছেলে ছারা অন্য কোন ছেলে ভিডিওতে নাই।

পরবর্তীতে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। বিচার চলেতে থাকে আদালতে। জিহান এবং দিদারের বাবা প্রতিদিন আমার খালুর কাছে আসত। বছর খানেক পর আমার খালু তাদের দুই বাবার কাছে দুই দুই লাখ করে মোট ৪ লাখ টাকা নিয়ে আপস হয়। কিন্তু কোর্ট সেটা মানেনা। এটা নাকি আপসযোগ্য না। পরে উকিলের বুদ্ধি মোতাবেক সাক্ষিগন ভুল ভাল সাক্ষি প্রদান করেন। তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ধর্ষণের কোন আলামত পায়নি। ডাক্তারী পরীক্ষায় কিছু পাওয়া যায়নি। সবার সাথে প্লান করে মামলাটি ভন্ডুল করে দেয়া হয়েছে। শুনেছি খালু, পুলিশ, আদালত, সাক্ষী সকলকে ম্যানেজ করে তাদের খালাশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর আমার কোনদিন পুলিশের কাছে যাওয়ার ইচ্ছো ছিলনা এখনো নাই। সব খালুর ইচ্ছায় হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ। আমাদের আবার ইজ্জতের দাম! অবশ্য আমার ইজ্জতের দাম খালু পেয়েছে। সেটা দিয়ে খালু নাকি একটি সিএনজি কিনে চালায়। ওটাই তাদের আয়ের মাধ্যম।

আমি তার মাস ছয়েক পরে বাড়ি চলে আসি। বাবা মা আমাকে পাশের গ্রামের এক কৃষকের সাথে বিশ হাজার টাকা খরচ করে বিয়ে দেয়। এই টাকাটা নাকি খালু বাবা দিয়ে বলেছিল “মেয়েটা এতদিন আমার কাছে ছিল তাই ওর বিয়ে দেয়াতো আমারি দায়িত্ব ছিল, তা যেহেতু পারিনি তাই টাকাটা রাখ। ” আজ আমার এক মেয়ে পাশের বাড়িতে কাজ করে আরেকটা পেটে। চলে যায় দিন কিন্তু আজও মনে হলে ঘৃণা জাগে  এ সমাজের প্রতি, আইনের প্রতি, পুলিশের প্রতি আর আমার খালুর মত হাজারো খালুর প্রতি। সারা বাংলা এমন কত রুবার ইজ্জত লুন্ঠন করা হচ্ছে, কিন্তু বিচার হচ্ছেনা। হচ্ছে ইজ্জতের টাকা ভাগাভাগি। ১০% অমুক, ২০% অমুক, ৫০% অমুক।

 

 

 

( সকল চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক )

শেয়ার করুন…………. প্লিজ কেউ কপি করবেন না।

comments