Search

পুলিশ অধ্যাদেশ ও সরকারের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ পুলিশ অধ্যাদেশ-২০০৯ নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণে যেকোনো সময় আন্দোলনে নামতে পারেন তাঁরা। সরকার ঠেকানো পুলিশ এখন বলির পাঠা হতে যাচ্ছে তারই হাতে। হতে এটি সরকারের প্রধান ভুল সাদ্ধান্ত। এই সরকারই পুলিশের শ্রেণী পরিবর্তন করে যুগ উপযোগি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এস আই বা সাজেন্ট পদে ভর্তী হয়ে এক rank পদন্নতি অথচ কনস্টেবলে ভর্তী হলেও একই rank পর্যন্ত পদন্নতি হয় তাহলে কনস্টেবলে ভর্তী হওয়াই ভালো।

পুলিশ অধ্যাদেশ ও সরকারের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত
পুলিশ অধ্যাদেশ ও সরকারের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত

আর এই বিষয় নিয়ে পুলিশ নিজেই যদি আন্দোলন করে তাহলে মাঠে থাকবে কোন বাহিনী? মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশের সাথে কথা বলে এমনটাই
জানা গেছে। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশকে ‘কালো’ অধ্যাদেশ অখ্যায়িত করে এ আন্দোলনে নামার চিন্তা ভাবনা করছেন পুলিশের উপ- পরিদর্শক ও পরিদর্শক পদমর্যাদার সারা দেশের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তা। নতুন অধ্যাদেশ পাশ হলে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে খোদপুলিশ কর্মকর্তারাই। গত ৪ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে সৃষ্ট ‘চিফ ইন্সপেক্টর’ পদ নিয়ে জটিলতায় ক্যাডার-নন ক্যাডার পুলিশের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন চরম আকার ধারণ করেছে। মাঠে কর্মরত উপ-পরিদর্শক ও পরিদর্শক পর্যায়ের কমকর্তাদের দাবি- এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। তাই অধিকার রক্ষার আন্দোলনের চিন্তা ভাবনা করছেন পদবঞ্চিত কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগও শুরু করে দিয়েছেন পরিদর্শক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শকদের দাবির মুখে দীর্ঘ চার বছর ধরে যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৯। এর আগে এই অধ্যাদেশ কয়েকবার সংযোজন-পরিবর্তন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও পরিদর্শক পদ মর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরোধিতার মুখে তা পুলিশ সদর দপ্তরে ফেরত এসেছে। সর্বশেষ গত বছর পরিদর্শক পদমর্যদার পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণির নন- ক্যাডার পদমর্যাদায় উন্নিত করার মাধ্যমে এই জটিলতার নিরসন করতে চেয়েছিলো সরকার। কিন্তু সম্প্রতি প্রস্তাবিত পুলিশ অধ্যাদেশ-২০০৯ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত চিফ ইন্সপেক্টর পদ নিয়ে আবারও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও নগর পুলিশের উপ-পরিদর্শক ও পরিদর্শক পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জেলা ও নগর পুলিশের উপ-পরিদর্শক ও পরিদর্শকদের দাবি এই  অধ্যাদেশ পাশ হলে পরিদর্শকরা আগামীতে আর কখনোই সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(এডিশনাল এসপি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদ মর্যাদায় পদোন্নতি পাবেন না। পদোন্নতি বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ২৭ বছর বয়স সীমায় চাকরিতে প্রবেশের পর এক বছরের বেসিক কোর্স শেষ করে তিন বছরের শিক্ষানবিশ থাকার পর উপ-পরিদর্শক হিসেবে চাকরি নিশ্চিত হয়। পুলিশের উপ-পরিদর্শক পদে চাকরিতে যোগদানের ১০ বছরের মধ্যে পরিদর্শক হওয়ার কথা থাকলেও নানান জটিলতার কারণে একজন উপ- পরিদর্শককে পরিদর্শক হতে সময় লাগে কম পক্ষে ১৫ বছর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী- পরিদর্শক হওয়ার সাত বছর পরে পরীক্ষা দিয়ে তাদের প্রধান পরিদর্শক (চিফ ইন্সপেক্টর) হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও তিন বছর। একইভাবে চিফ ইন্সপেক্টর হওয়ার পরএএসপি হতে সময় লাগবে আরও ১০ বছর। সে ক্ষেত্রে একজন নন-ক্যাডার পুলিশ কর্মকর্তা পরিদর্শক সীমানা অতিক্রম করে ভবিষ্যতে কখনোই আর সহকারী পুলিশ সুপার হতে পারবেন না। আক্ষেপ প্রকাশ করে নগর পুলিশের এক পরিদর্শক বলেন, পুলিশে চাকরি করছি ২৪ বছর হলো, এখনো এএসপি (সহকারী পুলিশ সুপার) হতে পারলাম না! তিনি আরও বলেন, বর্তমান পুলিশ আইন অনুযায়ী যোগ্যতানুসারে একজন পরিদর্শক এসপি পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু নতুন আইন পাশ হলে আমরা (নন- ক্যাডার পুলিশরা ) কখনই এএসপি হতে পারবো না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাগড়াছড়ি জেলার একজন পুলিশ পরিদর্শক জানান, প্রস্তাবিত আইনে একজন নন-ক্যাডার পুলিশ পরিদর্শক প্রধান পরিদর্শক পদ অতিক্রম করে এএসপি হতে সময় লাগবে কমপক্ষে ৩২ বছর। কিন্ত সরকারি চাকরির সময়সীমা ৫৭ বছর ধরে হিসেব করলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৩০ বছরচাকরি করতে পারে।   প্রস্তাবিত পুলিশ  অধ্যাদেশ-২০০৯ পাশ হলে এই সিদ্ধান্ত পুলিশ বিভাগের জন্য আত্মঘাতী হবে বলেও মন

comments