Search

সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ প্রস্তুতী | SI recruitment 2015 preparation system| নিয়োগের আপাদ মস্তক

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ সাব ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আপনি যদি কোন চ্যালেন্জ নেয়ার পেশায় চাকুরী তথা আপনার জীবন অতিবাহিত করতে চান তাহলে এই পেশা বেছে নিতে পারেন।   আমি আপনাদের সকল প্রকার পদ্ধতি দেখাব। রাজনৈতিক, আর্থিক ও মেধা পদ্ধতি।  কিভাবে আপনারা সফল হতে পারেন। পুরো লেখা পড়ে শেষ করুন আর নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিন। সঠিকভাবে অনুসরণ করলে আপনার চাকুরীর নিশ্চয়তা বেড়ে যাবে অনেক খানি। আর সবটুকো পড়ার অংশ হিসেবে এটা পড়তে পারেন…. একজন পু্লিশের কিছু কথা

sub inspector

Bangladesh Police SI Job Circular 2015

Job Title: Sub Inspector (SI)
Primary Selection Date: 27 July 2015

Apply Deadline: 29th July 2015

Bank Draft: 300/- Taka; After Selected (on the time of Application)
Job Location: Anywhere in Bangladesh

Bangladesh Police Sub-Inspector (SI) Job s 2015 Primary Selection will be taken at Dhaka Rajshahi, Sylhet, Chittagong, Khulna, Barisal, Rangpur. Total 7 ranges will be held Bangladesh Police SI Job 2015 Primary Selection.

 

প্রথম ধাপ: লাইনে দাড়ানোর দিন

 আপনার যা যা লাগবে : প্রথম কথা হলো আপনার বয়স থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনার বয়স ২৭ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। ২৬ বৎসর ১১ মাস ২৯দিন পর্যন্ত বয়স হলে আপনি যোগ্য।

অবিবাহিত হতে হবে। তবে আপনি যদি আপনার বিবাহ করার খবরটি ট্রেনিং শেষ করা অবধি লুকিয়ে রাখতে পারেন তাহলে খুব একটা সমস্যা হবেনা। অনেকেই তাদের বাচ্চা কাচ্চা রেখে গিযে চাকরীতে ঢুকছে বিশেষ করে যারা কনস্টেবল থেকে আবার দারোগার চাকুরীতে ঢুকছে, কারন তারা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ফাক ফোকর বুঝে ফেলে। তবে কেউ যদি আপনার নামে কাবিনের কপি সহ লিখিত আবেদন করে আপনাকে অপসারনের জন্য তখন আপনাকে বের করে দেওয়া হতে পারে।  (প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জমা দিন)

মেয়েদের জন্য : সর্বশেষ ব্যাচ সারদা থেকে ট্রেনিং শেষ করে এসেছে, তাতে দেখা গেছে মোট সংখ্যার ১০% মেয়ে নেয়ার কথা থাকলেও ৭-৮% পুরন হয়েছে। অর্থাৎ মেয়ে প্র্রার্থী কম যাওয়ার কারনে নারী কোটা পুরন হয়না। ভাল করে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেই চাকরী হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। আর ভেবে দেখুন ২য় শ্রেনীর চাকুরী খারাপ না।

২৭/০৭/২০১৫ তারিখ লাইনে দাড়াতে হবে সকল কাগজ পত্র সহ। মনে করে অবশ্যই একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষনের সনদ নিয়ে যেতে হবে। আপনি কম্পিউটারের কিছু না জানলেও চলবে। চাই শুধু প্রশিক্ষন সনদ। সেটি আপনি নিজেই কোন কম্পিউটার থেকে কোন সনদের কপি দেখে প্রিন্ট করে নিলেও হবে।  নো প্রবলেম। শুধু থাকলেই হবে।

লাইনে দাড়ানোর দিন সাথে করে লুকিয়ে এক ‍টুকরো সাবান নিয়ে যাবেন। যদি কোন কারনে বাতিল সিল আপনার বুকে পড়ে যায় তাহলে নিকটে কোথাও লুকিয়ে সাবান দিয়ে ঘষে সীলটি তুলে আবার সেই লাইনে গিয়ে দাড়ান। কাজ হবে। অনেকে আছে যারা একবার বাদ পড়বে কিন্তু পরের বার সীল তুলে এসে ফাইনালী তাদের চাকরী হয়ে গেছে। সো এই বুদ্ধিটি মাথায় রাখুন।

অনেককে ওজন বেশি, হাটু লেগে যায় কারনে বাদ দেয়। তাই কাছের সম্পর্কের কোন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। কারন ওজন পরিমাপ করবে একজন কনস্টেবল, তাকে আপনার পুলিশ দিয়ে একটু পুর্বে বলে রাখলেই আর বাদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অথবা কোন আপনার এলাকার এম পি এর পিএসের সাথে কথা বলে রাখুন যে কোন কারনে বাদ পড়লে তাকে ফোন দেবেন সে যেন আপনি জানালে একটু ফোন করে বলে দেয় । ব্যাস আপনি প্রথমদিন পার। আবেদন পত্র দিবে । আবেদন পত্র নিবেন আপনার পরিচিত ভাল ছাত্রের সাথে। কারন এভাবেই লিখিত পরীক্ষার সিট বসবে। এমন ভাবে বন্ধুরা ফরম নিবেন সিরিয়ালি যেন এক বন্ধু গনিত ভাল পারে, একজন ইংলিশ একজন সাধারন জ্ঞান। তাহলে পুরো পথটা সহজ হবে। সেটি পুরন করে নির্ধারিত স্থানে জমা দিন। কিছু দিন পর পুলিশ আপনার ঠিকানায় যাবে প্রবেশ পত্র দিতে। লিখিত পরীক্ষার।

 

২য় ধাপ: লিখিত পরীক্ষা >> আশার কথা হলো প্রশ্ন অনেক সহজ হয়। একটু প্রস্তুতী থাকলেই হবে।

বাজারে সাব ইন্সপেক্টর/সার্জেন্ট নিয়োগ গাইড পাওয়া যায় সেটি একটি কিনে ফেলুন। বিগত বছরের সকল প্রশ্ন গুলির সমাধান ভাল করে পড়ে ফেলুন। বাংলা, ইংলিশ আর গনিত। ঘুরে ফিরে এইগুলির মধ্যেই প্র্রশ্ন হয়ে থাকে। ইংলিশের জন্য বাক্য রচনা করা শিখে যাবেন। মানে মুক্ত হস্তে দুকলম লিখতে পারেন এমন। প্যারাগ্রাফ, পত্র কিভাবে লিখতে হয় তার প্যাটার্ন দেখে যান। কমন না পড়লেও লিখে আসেন। পাশ করবেন। না লিখে রেখে আসবেন তো ফেল করবেন।  সবকিছু লিখে আসুন। পুলিশের এত সময় নেই মনোযোগ দিয়ে পড়ার। কিন্তু লেখা থাকতে হবে।  এক কথায় যেগুলো উত্তর সেগুলো ভুল করবেন না।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে যে সকল পুলিশ অফিসার ডিউটিতে আছেন তাদের সাথে একটু কথা বলে নিন। একটু সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করুন। স্মার্টলী কথা বলুন তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে। ভাব নিবেন না। একটু সখ্যতা গড়ে উঠলে তাকে বলুন যে স্যার আমার সকল পরীক্ষা ভাল হয়েছে বা ভাল হবে শুধু একটু এই আজকের বিষয়ে সমস্যা। যদি আপনি একটু আমাকে ওভার লুক করেন তাহলে আমার চাকরিটা হবে। ব্যাস কাজ হবে পারে। না হলেও আপনারতো ডানে বামে বা সামনে পিছনে আপনার নির্ধারিত বন্ধু আছেই। আর ঔ গাইডটার ৫/৬ বছরের প্রশ্নপ্রত্র মুখস্ত করে গেলে কাউকেই লাগবেনা।  আপনি পাশ করবেন এখানেও।

 

ভাইভা :

ভাইভার জন্য আপনাকে প্রথম প্রশ্ন করবে আপনার একডেমিক বিষয় কি ? অর্থাৎ আপনার বিষয়ের উপর বেসিক সকল বিষয়গুলো জানতে হবে।  আর সর্বপরি একজন মহিলা ভাইভা বোর্ডে থাকবে হয়ত যিনি আপনাকে সহজ বঙ্গানুবাদ ধরবে একটি। ধরুন বলবে “দৃশ্য আমাকে মুদ্ধ করেছে” বা  “এখন এতটা বাজে” রুমটি কি সুন্দর ইত্যাদি। সুতরাং এগুলো জেনে রাখবেন।

লবিং :

আপনাকে অনেক লোক অনেক কথা বলবে। তারা যা বলতে পারে “১০ লাখ টাকা দিলে চাকুরী দিয়ে দিচ্ছি, একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব ব্যাবস্থা করে দেব, লাইরে দাড়ানো থেকে ভাইভা পর্যন্ত সকল ব্যবস্থা করে চাকুরী দেব, অমুক বসকে তোমার কথা বলছি বলছে চাকরী দেবে, অমুক এম পি এর লিস্ট হচ্ছে টাকা দিলে চাকরী হবে, অমুক মন্ত্রীর লিস্টে তোমার নাম যাবে, তোমার জেলায় একটা চাকুরী হলে সেটা হবে তোমার, ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

এসব কথা পুরাই বাকোয়াজ। কিছু বিশ্বাস করবেন না, বলবেন জানাবো। যে এসব কথা বলে লক্ষ্য করবেন সারা জীবনে সে কোন চাকুরীই পায়নি শেষ মেষ ধান্দা করে খাচ্চে।

তাই বলে কি লবিং নেই ? আছে। লিখিত পাশ করার পর। আগে করে কোন লাভ নাই। যে যত বড় কথা বলুক কারো সাধ্য নেই কারো লিখিত পরীক্ষায় পাশ করানো। এটাই বাস্তবতা। সুতরাং লিখিত পাশের পারে দৌড়ান। আগেই দৌড়ায়ে তেল খরচ করে কোন লাভ নেই।  বাংলাদেশে কোন কিছুই পুরো পুরি নাই । না পুরো দুর্নীতি না পুরো ফেয়ার। তাই যেকোন উপায়ে নিজের গন্তব্যে পৌছাই আসল কথা।

আপনার এম পি নিকট থেকে ডিও লেটার নিবেন, যেখানে আপনার নাম ঠিকানাসহ ভাইভার ডেট থাকবে, শেষের দিকের লাইনে লেখা থাকবে  ”সুতরাং আমি ওমুককে নিয়োগ দেয়ার জন্য জোর সুপারিশ করছি”। সরকার দলীয় এমপি হতে হবে। তার অফিশিয়াল প্যাডে লিখে অখবা প্রিন্ট করে নিবেন।  এটি লেখা থাকবে মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বরাবর। কোন দালালের মাধ্যমে নয় বরং পরিচিত কারোর সাথে নিজে গিয়ে সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিকট খামটি দিয়ে বলবেন ওমুক এমপি সালাম দিছে। এটা এভাবে রিসিভ করাতে পারলে আপনার কাজ হয়ে যাবে অনেক । তা না হলে কার কাছে দিবেন আর কাগজটা কোথায় আছে কিছু জানতে পারবেন না।



 

জার রাজনীতি করেন তাকে দিয়ে সুপারিশ করলে চাকুরী নাও হতে পারে কারন তারা জানে আপনার চাকুরী দিলে আপনার থেকে টাকা নিতে পারবেনা। কাজও করবেনা কিন্তু মুখে বলবে করতেছি। লবিং করলে শক্ত কারোর সাথে শক্তভাবে করুন। কোন ক্রমেই যেন আবার খারাপ রেজাল্টের পর ….. উঠানোর জন্য দৌড়া দৌড়ি না করতে হয়। তবে মনে রাখবেন কমবেশি ৫০% লোক ফেয়ার নিয়োগ পায়। তবে আপনি কেন নয় ? ভাল প্রস্তুতী নিয়ে নিন। আপনি যদি নিজেকে খুব ভাল ভাবে দেখাতে পারেন আপনার এমনিতে চাকুরী হবে। কোন টাকা পয়সা লাগবেনা। আর মেয়ে আর মুক্তিযোদ্ধা কোঠা হলে এই  পতে কোন ভাবেই পা বাড়াবেন না । কারন আপনাকে খোজা হচ্ছে এই চাকরী দেওয়ার জন্য।

আপনাদের প্রতি থাকল শুভ কামনা…………. আপনাদের চাকরী হবেই আশা করি।

ঢাকা ম্যাগাজিনের পেজে লাইক দিতে ভুলবেন না কিন্তু………..

comments