মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৫৬ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দেওয়া বৈদেশিক মুদ্রার ঋণও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিল বাদ দিয়ে হিসাব করা নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ বর্তমানে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ নামে আরেকটি সূচক রয়েছে, যা নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি দায় ও বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে নির্ধারণ করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে গ্রস ও বিপিএম৬ অনুযায়ী নিট রিজার্ভ প্রকাশ করলেও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে শক্তিশালী রিজার্ভ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের হাতে কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকাকে নিরাপদ ধরা হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপের ফলে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান দেশের বহির্বাণিজ্য, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।