সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের ওই বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। সরকারের অনুমোদনের পর ১৫ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে গত শুক্রবার এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
তারেক রহমানের গুলশান বাসভবন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে
জানা গেছে, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে গুলশানের প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান সপরিবারে এই বাসভবনে ওঠেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি সেখান থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
যদিও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে সরকারপ্রধানের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, তবে তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও সরকারি কার্যক্রমের একটি অংশ যমুনা থেকে পরিচালিত হলেও তার সরকারি আবাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে গুলশানের এই বাসভবন।
আরও পড়ুন
বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার ফলে বাসভবনের বহিঃ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি ও দলিলপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব কার্যক্রম তদারকির জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে।
নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, বাসভবনের সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট এবং এর ওপর আরও তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি আশপাশের সুউচ্চ ভবন থেকে সম্ভাব্য নজরদারি, ছবি তোলা কিংবা স্নাইপার হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এছাড়া কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো উচ্চ ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিতে হবে। কেপিআই ভবনের ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন স্থাপনা নির্মাণেও বিধিনিষেধ থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি এবং ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালাও অপসারণ করা হবে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা। পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত থাকবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।