আন্তর্জাতিক

মাশহাদে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হলো আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

সপ্তাহব্যাপী শোকযাত্রা ও শেষ শ্রদ্ধা

চুড়ান্ত দাফনের আগে দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় নগরীতে খামেনির মরদেহ নিয়ে শোকযাত্রা, বিশাল সমাবেশ ও বিশেষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তেহরান, কোম এবং ইরাকের পবিত্র নাজাফ ও কারবালা হয়ে সর্বশেষ মাশহাদে তার মরদেহ আনা হলে লাখো মানুষের ঢল নামে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে হাজার হাজার মানুষ মাশহাদের রাজপথে নেমে আসেন। শোকগ্রস্ত জনতা এ সময় ইরানের জাতীয় পতাকা, প্রয়াত নেতার ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের অঙ্গীকার

দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিশোধমূলক স্লোগান দেয়। এ সময় অনেকের হাতে ‘কিল ট্রাম্প’ লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। উপস্থিত জনতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর জন্য সরাসরি মার্কিন প্রশাসনকে দায়ী করেন এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন

বিশ্লেষকদের মতে, শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্যে ‘শাহাদাত’ বা আত্মত্যাগের বিশেষ গুরুত্ব থাকায়, বিদেশি হামলায় খামেনির এই মৃত্যুকে ইরান রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

এদিকে, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে শীর্ষ পদে স্থলাভিষিক্ত হলেও তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

ইরানি সূত্রের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির এক হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং উচ্চ নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কেবল লিখিত বার্তা দিলেও, এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি।

৩৭ বছরের শাসনাবসান ও আইআরজিসি-র উত্থান

প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। টানা ৩৭ বছর তিনি দেশটির রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন।

তার শাসনামলেই দেশটির এলিট সামরিক শাখা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) রাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ও শক্তিশালী সংস্থায় পরিণত হয়। মূলত আইআরজিসি-র জোরালো সমর্থনে ও শক্তিতেই মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

একই বিভাগের আরও খবর