বিনোদন

গ্রেপ্তার নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি, রাষ্ট্রের কাছে চাইলেন জবাব

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

স্ট্যাটাসে পরীমনি লেখেন, ২০২১ সালের ঘটনাটি একজন শিল্পী, একজন নারী এবং একজন মানুষ হিসেবে তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। এর প্রভাব শুধু তার ওপর নয়, তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ওপরও পড়েছে।

সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে সাবেক র‍্যাব গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আলোচনায় এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা থেকে তার ধারণা হয়েছে যে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে তার বাসায় অভিযানের পর তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

পরীমনি আরও দাবি করেন, একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জীবনকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত তিনি নিজেকে ওই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হিসেবে দেখেন। তার সম্মান, নৈতিকতা ও চরিত্রকে যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রের উদ্দেশে একাধিক প্রশ্ন তুলে পরীমনি জানতে চান, হারিয়ে যাওয়া সময়, সম্মান ও মানসিক শান্তি কি কখনও ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? তাকে ঘিরে মানুষের মনে যে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হয়েছে, তার দায় রাষ্ট্র নেবে কি না, সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।

তবে প্রতিশোধ নয়, সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পক্ষেই তিনি কথা বলতে চান বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, তিনি কখনও বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হতে চাননি; বরং একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছেন।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, সাংবাদিক ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পরীমনি। তিনি জানান, অতীতের ক্ষত নয়, নিজের কাজ, সন্তান, পরিবার এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চান।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমনির বাসায় র‍্যাব অভিযান চালায়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ২৮ দিন কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলামের এক টকশোর বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

একই বিভাগের আরও খবর