আন্তর্জাতিক

১৩৬ বছরের ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ বন্ধ, রানওয়ে সম্প্রসারণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক মসজিদে এতদিন বিশেষ অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা গেলেও এখন সেই অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দরের প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে অনুমতি ছাড়া কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান অবস্থানে মসজিদটি থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বড় উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামা এবং প্রধান রানওয়ের সংস্কারের সময় বিকল্প রানওয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

এর আগে বিরাটি মোড়ের দিক থেকে বিমানবন্দরের তিন নম্বর ফটক দিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতেন। এরপর বিমানবন্দরের ভেতরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মসজিদে পৌঁছাতে হতো। তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদটি স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিশেষজ্ঞ দল ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে তারা কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চায় না। তবে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ১৩৬ বছরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং মসজিদের ধর্মীয় মর্যাদা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় ও আধুনিক একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। নতুন স্থানে ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সব ধরনের সুযোগ থাকবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের কাছে গৌরীপুর জামে মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রবেশ বন্ধ ও স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ঘিরে আবেগ তৈরি হলেও অধিকাংশই আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রত্যাশা করছেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন মসজিদ নির্মাণ, স্থানান্তরের সময়সূচি এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমানে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

একই বিভাগের আরও খবর