জাতীয়

ইসলামি শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইসলামি শিক্ষার মূল লক্ষ্য মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা। এ খাতকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গবেষণা, দক্ষ শিক্ষক এবং আধুনিক কারিকুলামের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এমনভাবে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণানির্ভর ও পরিকল্পিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফাজিল ও কামিল শিক্ষাকে মূলধারার উচ্চশিক্ষার সঙ্গে আরও সুদৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এ ধরনের শিক্ষার চাহিদা বেড়েছে। ইসলামি শিক্ষা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম।

মাদ্রাসা খাতে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নেই। বিশেষ করে ইসলামি শিক্ষায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারিকুলাম উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

তিনি জানান, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা সরকারের নজরে রয়েছে এবং তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) চালুর মাধ্যমে বেতন পরিশোধ ব্যবস্থা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। ইসলামি শিক্ষার শিক্ষার্থীদেরও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবদান রাখার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। ফাজিল ও কামিল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, বিসিএসসহ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

একই বিভাগের আরও খবর