তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের সঙ্গে বা ডিম খাওয়ার পরপরই কিছু খাবার গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা হতে পারে বা কিছু পুষ্টি উপাদানের শোষণে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এসব প্রভাব সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয় না এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাত্রাও ভিন্ন। তাই বিষয়টি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
ডিম খাওয়ার পর যেসব খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
যেসব খাবার ডিমের সঙ্গে বা পরপর খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়:
১. কলা
অনেকেই সকালের নাশতায় ডিম ও কলা একসঙ্গে খান। তবে কিছু পুষ্টিবিদের মতে, এই দুই খাবার একসঙ্গে খেলে কারও কারও হজমে অস্বস্তি, ভারীভাব বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। এমন সমস্যা হলে ডিম ও কলা ভিন্ন সময়ে খাওয়াই ভালো।
আরও পড়ুন
২. পনির
ডিম ও পনির—দুটিই উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে অতিরিক্ত প্রোটিন ও চর্বির কারণে কিছু মানুষের হজমে সমস্যা হতে পারে এবং মোট ক্যালোরি গ্রহণও বেড়ে যায়।
৩. সয়া দুধ
সয়া দুধ ও ডিম একসঙ্গে খেলে কিছু মানুষের হজমে সময় বেশি লাগতে পারে। এছাড়া সয়ায় থাকা কিছু যৌগ নির্দিষ্ট কিছু খনিজের শোষণে সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
৪. অতিরিক্ত মাংস
ডিমের সঙ্গে বেশি পরিমাণে মাংস খেলে খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। সুস্থ মানুষের জন্য এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবে অতিরিক্ত ভারী খাবার হজমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই পরিমিত খাবার গ্রহণই উত্তম।
৫. চা
গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ের ট্যানিন খাদ্য থেকে আয়রন শোষণ কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। যাদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তারা ডিম বা অন্যান্য আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে সঙ্গে চা না খেয়ে অন্তত ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পরে পান করলে ভালো।
৬. আয়রন সাপ্লিমেন্ট
ডিমের সঙ্গে সরাসরি আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান রাখা ভালো। এতে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ডিম একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ। তবে যদি নির্দিষ্ট কোনো খাবারের সঙ্গে ডিম খাওয়ার পর নিয়মিত হজমের সমস্যা, গ্যাস বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তাহলে খাবারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারেন। একই সঙ্গে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।