আন্তর্জাতিক

কেপ ভার্দেতে মুসলমানদের আগমন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে মুসলিমদের সংখ্যা খুবই কম। ২০২১ সালের জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার জনসংখ্যার দেশে মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৯০০, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ।

দেশটির অধিকাংশ মুসলিমই সুন্নি এবং তারা মূলত সেনেগাল, গিনি-বিসাউ ও মালির মতো পশ্চিম আফ্রিকার দেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে এসেছেন। রাজধানী প্রাইয়া, মিনদেলো, সাল ও বোয়া ভিস্তা দ্বীপে তাদের বসবাস বেশি। ব্যবসা, নির্মাণ ও সেবাখাতে কাজ করে তারা দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন।

যেভাবে ইসলামের আগমন

১৪৬২ সালে পর্তুগিজরা কেপ ভার্দেতে উপনিবেশ স্থাপনের পর পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম ব্যবসায়ী ও দাসদের মাধ্যমে প্রথম ইসলামের আগমন ঘটে। সে সময় ওলোফ, মানদিঙ্কা ও ফুলানি মুসলিমরা দ্বীপে এলেও পর্তুগিজ শাসনের কারণে ক্যাথলিক ধর্মের বাইরে ধর্মচর্চা কঠোরভাবে দমন করা হয়। মসজিদ নির্মাণ, প্রকাশ্যে ইবাদত ও ইসলামি শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন সীমাবদ্ধ ছিল।

আরও পড়ুন

স্বাধীনতার পর নতুন সুযোগ

১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার পর সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে মুসলিমরা প্রকাশ্যে ধর্মচর্চার সুযোগ পান। পরে অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং ইকোওয়াসভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসন বৃদ্ধির ফলে মুসলিম জনসংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

১৯৯০ সালে রাজধানী প্রাইয়ায় প্রথম সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মসজিদ নির্মিত হয়। ২০১৪ সালে ধর্মীয় সংগঠন নিবন্ধনের আইন কার্যকর হওয়ার পর মুসলিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।

ধর্মীয় জীবন ও সম্প্রীতি

কেপ ভার্দের মুসলিমরা স্থানীয় ক্যাথলিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে বসবাস করছেন। রমজান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করা হয়। ঈদুল আজহায় কোরবানির মাংস দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয় এবং মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষেও সীমিত পরিসরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বর্তমানে ‘কম্যুনিদাদে ইসলামিকাদে কাবো ভের্দে’ ও ‘অ্যাসোসিয়েশন ইসলামিকা দে দাওয়াহ দে কাবো ভের্দে’সহ কয়েকটি সংগঠন ধর্মীয় শিক্ষা, দাওয়াহ, জাকাত বিতরণ ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চ্যালেঞ্জও রয়েছে

ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকলেও মুসলিমরা এখনো কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি। কঠোর আবাসন নীতি, বৈধ কাগজপত্রের জটিলতা এবং উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় অভিবাসী মুসলিমদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দেশটিতে ধর্মীয় উগ্রবাদ বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার উল্লেখযোগ্য কোনো নজির নেই।

মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ইসলামি সংগঠনগুলো মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কেপ ভার্দের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।

একই বিভাগের আরও খবর