সোমবার (৬ জুলাই) ভিডিও বার্তায় এ প্রস্তাব তুলে ধরেন সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় ২২ লাখ পরিবারের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও ন্যায্য দাবির বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে বলে তারা আশা করছেন।
পে স্কেল বাস্তবায়নে দুই প্রস্তাব কল্যাণ সমিতির
আব্দুল মালেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা চরম আর্থিক চাপে রয়েছেন। অনেকেই ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।
তিনি জানান, ১১ বছর পর নতুন পে স্কেল কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। সেই দুই পে স্কেলের সমন্বয়ে নবম জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
তার ভাষ্য, জাতীয় বেতন কমিশনের কাছে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রতি সম্মান জানিয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনগুলো।
দুটি প্রস্তাব
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সরকারকে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রথম প্রস্তাব:
- শতভাগ মূল বেতন এক ধাপেই বাস্তবায়ন।
- পরবর্তী ধাপে সব ধরনের ভাতা কার্যকর করা।
দ্বিতীয় প্রস্তাব:
- প্রথম ধাপে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর।
- দ্বিতীয় ধাপে বাড়ি ভাড়া ভাতা।
- তৃতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতা সংযোজন।
আব্দুল মালেক বলেন, মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে নানা জটিলতা তৈরি হবে এবং কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই প্রথম ধাপেই সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর করার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, যদি সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তাহলে ভাতাগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এতে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না।
দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মচারীদের মধ্যে যে অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কর্মচারীদের নিজেদের মতামত তুলে ধরে এ দাবিগুলো সরকারের নজরে আনার আহ্বান জানান।