প্রধান বিষয়বস্তুতে যান
সর্বশেষ
অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড ● সেন্টমার্টিনে পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণবিধি পুনর্বিবেচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী ● জনপ্রশাসন সংস্কার ও সুশাসনে ইউএনডিপির সহায়তা চাইলেন উপদেষ্টা ● ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য ● জনগণের টাকার পাই-পয়সার হিসাব দে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ● মক্কা-মদিনার ওপর আঘাত এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ ● ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী ● তিন জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী ● হয়রানির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার-শুক্রবার এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা ● অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-ইইউ ●

জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টন তেল আমদানি করছে সরকার

বিজ্ঞাপন
জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টন তেল আমদানি করছে সরকার
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, নতুন চালানে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল আমদানি করা হবে। এ জ্বালানি সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। পুরো আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন
300*250 Ad-A-P1

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ জ্বালানি তেল ক্রয় করছে। সম্প্রতি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
300*250 Ad One-Green

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বাসসকে জানান, দেশের চাহিদা বিবেচনায় সরকার সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানি করে। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের চাহিদার ভিত্তিতে বিপিসির পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদনের পর প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে 'নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ)' দেওয়া হবে এবং পরবর্তী ধাপে তেল সরবরাহ শুরু হবে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন অস্থিরতা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম মজুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
728*90 Ad One-Y

বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক দরপত্র অনুমোদনের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে এনওএ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত জ্বালানি তেল দেশে আনা হবে।

বিজ্ঞাপন
728*90 Ad One-P

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য সেটিকে ৯০ দিনে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য পূরণে নিয়মিত বিরতিতে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত থাকবে।

ব্যয় ও অর্থায়ন

বিপিসির প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল ও ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার। সোনালী ব্যাংকের ১৩ মে নির্ধারিত প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ২৫ পয়সা বিনিময় হার অনুযায়ী এর মূল্য প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। এ আমদানির অর্থ বিপিসির নিজস্ব তহবিল এবং প্রয়োজন হলে ঋণ বা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ভূ-রাজনৈতিক সংকট বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় অনেক জাহাজকে বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন ব্যয়, যুদ্ধঝুঁকি বিমা প্রিমিয়াম এবং জাহাজ ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিপিসির মূল্যায়ন কমিটির মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পাওয়া মূল্য যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য।

সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা নেই

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বিদ্যমান মজুত দিয়ে অন্তত ৬০ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। পাশাপাশি ডলার সংকটের মধ্যেও জ্বালানি আমদানির জন্য এলসি খোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্নের আশঙ্কা নেই।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
728*90 Ad One-be
ঢাকা ম্যাগাজিনের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
অর্থনীতি থেকে আরও
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চায়, সরকারও তা চায়: অর্থমন্ত্রী

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চায়, সরকারও তা চায়: অর্থমন্ত্রী

৬ ঘণ্টা আগে
আমদানির গমের মান যাচাইয়ে শৈথিল্য নয়: খাদ্যমন্ত্রী

আমদানির গমের মান যাচাইয়ে শৈথিল্য নয়: খাদ্যমন্ত্রী

১ দিন আগে
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

১ দিন আগে
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী মারুবেনি, সহযোগিতার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী মারুবেনি, সহযোগিতার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

১ দিন আগে
ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

২ দিন আগে
রমজানে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক ও অপচয় রোধে নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

রমজানে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক ও অপচয় রোধে নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

২ দিন আগে