শেয়ারবাজার

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির দায়ীদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি জানান, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের অনিয়মে আরও কেউ জড়িত কি না, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে কারসাজির দায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। অধিকতর তদন্তের জন্য অভিযুক্তদের তালিকাও দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে বিপর্যয়ের পেছনে বাজার কারসাজি, কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির ঘাটতি এবং সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার মতো একাধিক কারণ কাজ করেছে।

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নিয়োগ, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহ দেওয়া, ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের কোম্পানিকে বাজারে আনা, কারসাজি রোধে তথ্যদাতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্যানেল নীতিমালা প্রণয়ন, মূলধনী মুনাফা কর কমানো ও লভ্যাংশ আয়ের ওপর দ্বৈত কর প্রত্যাহার, পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়েরের সুযোগ সৃষ্টি, পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন ও বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু, ইলেকট্রনিক গ্রাহক পরিচিতি যাচাই ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সহজ করা, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল গঠন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন উন্মুক্ত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

একই বিভাগের আরও খবর