অর্থনীতি

সোনা ছাড়াও কোথায় বিনিয়োগ তুলনামূলক নিরাপদ? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী শফিকুল ইসলামও এমন একজন বিনিয়োগকারী। এক দশকের বেশি সময় ধরে একটি বিমা প্রতিষ্ঠানে অর্থ জমা রেখে প্রায় ১০ লাখ টাকার তহবিল গড়ে তুললেও পাঁচ বছর ধরে তিনি সেই অর্থ তুলতে পারছেন না। এ অভিজ্ঞতার পর তিনি মনে করেন, ওই অর্থ সোনা বা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে তা আরও নিরাপদ থাকত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত কোনো খাত নেই। তবে লক্ষ্য, সময় ও ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা বিবেচনায় কিছু খাত তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সোনা: অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ সম্পদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রার অবমূল্যায়নের সময়ে সোনা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সম্পদগুলোর একটি।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে এক লাখ টাকা ছাড়ায়। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গয়নার পরিবর্তে ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ সোনার বার বা মুদ্রা কেনা বেশি উপযোগী। তবে সোনা থেকে নিয়মিত কোনো আয় পাওয়া যায় না এবং বাজারদরের ওঠানামার ঝুঁকিও থাকে।

সঞ্চয়পত্র: সরকারি নিশ্চয়তার সুবিধা

অর্থনীতিবিদদের মতে, সোনার পর তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্রের অবস্থান শক্তিশালী।

সঞ্চয়পত্রে সরকার মুনাফাসহ মূলধন ফেরতের নিশ্চয়তা দেয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কর রেয়াতের সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করলে কিছু সুবিধা বাতিল হতে পারে।

বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশন সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে।

জমি ও আবাসন: দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ

বাংলাদেশে জমি ও আবাসনের দাম দীর্ঘমেয়াদে সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এ খাতে বিনিয়োগের আগে মালিকানা, আইনি জটিলতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জমির ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে এটি তুলনামূলক কম তারল্যসম্পন্ন সম্পদ হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত বিক্রি করা কঠিন হতে পারে।

মেয়াদি সঞ্চয়: ব্যাংকের সক্ষমতা যাচাই জরুরি

মেয়াদি সঞ্চয় বা নির্দিষ্ট সময়ের আমানতে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও সুনাম যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

তাদের মতে, শুধু বেশি মুনাফার আশায় দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ রাখা উচিত নয়। কারণ সময়মতো অর্থ ফেরত পাওয়া না-ও যেতে পারে।

সরকারি ঋণপত্র: কম ঝুঁকির বিনিয়োগ

সরকারি ঋণপত্রও তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার এসব ঋণপত্র ইস্যু করে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা প্রদান করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের জন্য সরকারি ঋণপত্র একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

শেয়ারবাজার ও বিমা নিয়ে সতর্কতা

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে এখনও স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া এ খাতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

একইভাবে বিমা খাতেও গ্রাহকসেবা ও দাবি নিষ্পত্তি নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও শর্তাবলি ভালোভাবে যাচাই না করে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো একক মাধ্যমের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। পাশাপাশি অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভন, অনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তাদের ভাষায়, নিরাপদ বিনিয়োগ বলে কোনো পরম ধারণা নেই। ব্যক্তির আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা এবং বিনিয়োগের সময়কাল বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

একই বিভাগের আরও খবর