বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল।
পুঁজিবাজার সংস্কারে তিন মাসের প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি: মাসুদ খান
করপোরেট জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, ‘আমরা কোনো কাজের ৮০ শতাংশ সময় পরিকল্পনায় এবং ২০ শতাংশ সময় বাস্তবায়নে ব্যয় করি। তাই যোগদানের আগেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছিলাম।’
তিনি জানান, প্রথমদিকে বিএসইসির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ অনেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, এ দায়িত্ব নেওয়ার ফলে দীর্ঘ ৪৬ বছরের করপোরেট জীবনের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করেন।
আরও পড়ুন
মাসুদ খান বলেন, রাতে বিষয়টি স্ত্রীকে জানালে তিনি ইস্তেখারা করার পরামর্শ দেন। পরদিন তার স্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পক্ষে মত দেন এবং বলেন, ‘করপোরেট জীবনে যা পাওয়ার ছিল, তা পেয়েছ। এখন দেশের জন্য কিছু করার সময়।’
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে একটি কার্যকর ও আস্থাশীল পুঁজিবাজার অপরিহার্য। সেই লক্ষ্য থেকেই তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ এবং বিদেশে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জিডিআর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজার তদারকিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং তালিকাভুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিএসইসির পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতাও অনেক ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে।
বাজেটে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন মাসুদ খান। তিনি বলেন, আন্তঃকোম্পানি লভ্যাংশে করের বোঝা কমানো, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা শিথিল, জিরো কুপন বন্ডে কর অব্যাহতি এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে পুনরুজ্জীবিত করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সরাসরি শেয়ার কেনার পরিবর্তে পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে।
এ ছাড়া লাইসেন্সধারী আর্থিক পরামর্শক ব্যবস্থা চালু, আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নতুন কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান বিধিমালা আরও বাজারবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাসুদ খান বলেন, ‘একটি প্রাণবন্ত ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার ছাড়া দেশের অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’