শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানবসেবার অন্যতম মহান মাধ্যম। মানুষ জীবনের সবচেয়ে সংকটময় সময়ে একজন চিকিৎসকের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখে। তাই চিকিৎসকদের নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সেবার মানসিকতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের ভালো ব্যবহার, সহানুভূতি ও সম্মানজনক আচরণ রোগীর সুস্থতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মেডিকেল এথিকস ও পেশাগত নৈতিকতা মেনে রোগীদের সেবা দিতে হবে।
আরও পড়ুন
-
১৩ উপজেলায় নতুন ১০১ শয্যার হাসপাতাল, ৪১৮ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও হবে উন্নীতশুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
-
কুষ্টিয়ায় হাসপাতাল থেকে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা গায়েববৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
-
নরমাল ডেলিভারির লেবার রুম বাধ্যতামূলক, না মানলে হাসপাতাল বন্ধসোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জীবনে শুধু নেওয়ার নয়, দেওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। চাকরিজীবনের শুরুতে প্রতি মাসে বেতনের একটি অংশ সমাজের কল্যাণে ব্যয় করার শিক্ষা পেয়েছিলেন, যা তাকে মানুষের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।
চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, করোনা মহামারি, হামের প্রাদুর্ভাব এবং সাম্প্রতিক বন্যার সময় দেশের চিকিৎসকরা অসাধারণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া তাদের মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠে থেকে কাজ করতে দেখা গেছে। এ ধরনের নিষ্ঠাই চিকিৎসকদের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।
সরকারের স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে আগামী মাস থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের মানুষের মতো গ্রামের মানুষও সমান মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তাই দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে জনগণকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
সময়নিষ্ঠা, পেশাগত নৈতিকতা এবং মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব গুণ বজায় রাখতে পারলে চিকিৎসকরা দেশের মানুষের কাছে আরও বেশি সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় হয়ে উঠবেন।