লোকজ ঐতিহ্য, গ্রামীণ জীবন, নদীভাঙা জনপদ, প্রেম-বিরহ এবং আঞ্চলিক ভাষার সৃজনশীল ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র এক কাব্যভাষা নির্মাণ করেন। তার বহুল আলোচিত কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’ এবং বিশেষ করে ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘সোনালী কাবিন’ তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির কবিদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তার বিখ্যাত পঙ্ক্তিগুলোর একটি হলো:
“সোনার দিনার নেই,
দেনমোহর চেও না হরিণী,
যদি নাও দিতে পারি
কাবিনবিহীন হাত দুটি।”
কবিতা ছাড়াও তিনি শিশুসাহিত্য, উপন্যাস ও সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘কবি ও কোলাহল’ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কাবিলের বোন’।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদ তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের আয়োজন করেছে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং একুশে পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন।