ব্যাংকিং সেবায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, ১৪ নতুন খাতে ফি আরোপের উদ্যোগ
ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্কপ্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬১ মিনিটে পড়া যাবে
ব্যাংকিংয়ের ১৪ সেবায় নতুন ফি আদায়ের প্রস্তাব, বাড়তে পারে নানা চার্জ
দেশের ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৪টি নতুন খাতে ফি বা চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে যেসব সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয় বা কোনো চার্জ নেওয়া হয় না, সেসব ক্ষেত্রেও ফি আরোপের সুপারিশ করেছে ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যমান ব্যাংকিং সেবার চার্জ বাড়ানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে এবিবি। প্রস্তাব অনুমোদন হলে আমানতকারী, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংকিং ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
যেসব সেবায় নতুন ফি প্রস্তাব
এবিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে নিষ্ক্রিয় (ডরম্যান্ট) ব্যাংক হিসাব পুনরায় চালু করতে কোনো ফি নেই। এ সেবার জন্য ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
চলমান ঋণের ক্ষেত্রে প্রতি বছর বকেয়া ঋণের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ব্যবস্থাপনা (মনিটরিং) ফি নেওয়ার সুযোগ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বায়ার্স ক্রেডিট, বড় করপোরেট ঋণ, ট্রেড ফাইন্যান্স ও অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রেও পৃথকভাবে ১ শতাংশ পর্যন্ত ফি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রিতে ২ শতাংশ কমিশন আরোপেরও প্রস্তাব রয়েছে।
ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব থেকে বর্তমানে যতবার খুশি নগদ টাকা উত্তোলনে কোনো চার্জ নেই। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে তিনবার পর্যন্ত বিনামূল্যে টাকা তোলা যাবে। চতুর্থ থেকে দশমবার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং দশমবারের পর প্রতিবার ৩০০ টাকা ফি দিতে হবে।
ব্যবসায়িক হিসাবের ক্ষেত্রে মাসে ২০ বার পর্যন্ত বিনামূল্যে নগদ উত্তোলনের সুযোগ রেখে ২১ থেকে ৫০ বার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং ৫০ বারের বেশি উত্তোলনে প্রতিবার ১৫০ টাকা ফি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া এলসি আবেদন গ্রহণ, বিদেশি ও স্থানীয় এলসির নথি প্রক্রিয়াকরণ, নথি সত্যায়ন, সক্রিয় এলসি বাতিল, ব্যালেন্স কনফারমেশন সার্টিফিকেট, ঋণ আগাম পরিশোধ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইল অনুমোদনসহ আরও কয়েকটি সেবায় নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে এবিবি।
বাড়তে পারে বিদ্যমান চার্জও
নতুন ফি চালুর পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যমান ব্যাংকিং চার্জও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সঞ্চয়ী হিসাবের গড় স্থিতির ভিত্তিতে হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি আরোপের সীমা কমিয়ে আনা হবে। ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফি বর্তমান সর্বোচ্চ ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন ফি ০.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো প্রস্তাবে এবিবি বলেছে, ব্যাংকিং সেবার পরিধি বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণ এবং মূল্যস্ফীতির কারণে বর্তমান চার্জ কাঠামো পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
এ কারণে দেশের সব ব্যাংকের জন্য একটি সর্বোচ্চ চার্জসীমা অনুমোদনের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়, প্রযুক্তি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সমন্বয়ের সুযোগ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।