মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী (দায়িত্বরত কর্মকর্তা) নুসরাত জাহান জেরিন স্বাক্ষরিত ‘বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
৫ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, রংপুরে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীসংলগ্ন এলাকাতেও বন্যার পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর জেলার কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সাময়িকভাবে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন
বর্তমানে দেশের পাঁচটি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো—নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা, সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা, মারকুলিতে কুশিয়ারা, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী।
বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরের পাশাপাশি ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা নদ-নদীর পানির প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত আট জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখের বেশি মানুষ।