মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রংপুর সফরের দ্বিতীয় দিনে নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন ‘পল্লী নিবাসে’ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে: জিএম কাদের
জি এম কাদের বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। এ কারণে আন্দোলনকে সফল বা ব্যর্থ নয়, বরং অসমাপ্ত বলাই যৌক্তিক।
তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনে দলীয়করণ, নিয়োগে বৈষম্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব এখনো বিদ্যমান রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
আরও পড়ুন
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। একই সঙ্গে তারা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে, বিরোধী মতকে সম্মান করা হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতি, মামলা-হামলা এবং নানা ধরনের অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান। এসব পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করা কঠিন হবে।
জি এম কাদেরের ভাষায়, জুলাই আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক আন্দোলন কিংবা নতুন পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে পারে। দীর্ঘদিন জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত থাকলে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত না হলে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা, আর সেই আস্থা অর্জনের জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করা জরুরি।
দেশে মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, মাদক এখন সমাজের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ বন্ধে কঠোর নজরদারিরও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরে জাতীয় পার্টির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে ‘পল্লী নিবাসে’ স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে এরশাদের কবর জিয়ারত, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এ সময় জি এম কাদের বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন দর্শন আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী জনপদের অগ্রগতি এবং রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর অবদান মানুষ স্মরণ রাখবে। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই জাতীয় পার্টি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।