বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর। তিনি জানান, নোটিশের জবাব দিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তিন থেকে পাঁচ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
পাবনার ৩৬৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ, শিখনফল না মেলায় কড়া অবস্থানে শিক্ষা বিভাগ
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়ের মধ্যে সাঁথিয়ায় ৭৪টি, আটঘরিয়ায় ৫৯টি, পাবনা সদরে ৫৪টি, বেড়ায় ৫০টি, চাটমোহরে ৪৮টি, সুজানগরে ৪১টি, ঈশ্বরদীতে ২৩টি, ভাঙ্গুড়ায় ১১টি এবং ফরিদপুর উপজেলায় ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো সেই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন
এতে আরও বলা হয়েছে, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত জুন মাসে জেলার ১ হাজার ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন শিক্ষা কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে ৩৬৭টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতায় ঘাটতি ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতারও মূল্যায়ন করা হবে। সেখানেও সন্তোষজনক ফল না এলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
শোকজের আওতায় থাকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দুর্গম ও চরাঞ্চলের পাশাপাশি উপজেলা শহরের কয়েকটি স্বনামধন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী পৌরসভার ফতেহ মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২৩ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৬ জন শিক্ষক থাকলেও গণিতে শিক্ষার্থীদের সফলতার হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকায় প্রতিষ্ঠানটিও শোকজের আওতায় এসেছে।
তবে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের দাবি, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং চরাঞ্চলের বাস্তবতা কাঙ্ক্ষিত শিখনফল অর্জনের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বেড়া উপজেলার চর নাটিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান শিপন বলেন, তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা কঠিন। পাশাপাশি চরাঞ্চলের অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে কৃষিকাজে যুক্ত করেন।
একই উপজেলার নতুন মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মকবুল হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মূল্যায়ন করায় প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিখনফল অর্জনের সময় থাকলেও তিন মাস আগেই শোকজ করা হয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নোটিশ হাতে পাওয়ার আগেই বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এফএলএন কর্মসূচি সফল করতে একাধিক সমন্বয় সভা হয়েছে। শিক্ষকদের লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিখনফল নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।