বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, নানা অন্যায়, অবিচার, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও অর্থ পাচারের অভিযোগের পরও দলটির আত্মসমালোচনার প্রবণতা নেই।
তিনি আরও বলেন, ২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, আর এখন ৮২ বছর বয়সেও দেশের প্রয়োজনে সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
আরও পড়ুন
-
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর গণতান্ত্রিক সংগ্রামের জীবন্ত দলিল: সংস্কৃতিমন্ত্রীবুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
-
প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামব, আমিও নামব: আসিফ নজরুলবুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
-
ফ্যাসিবাদের পরাজয়, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে: তথ্যমন্ত্রীবুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল, তেমনি জুলাইয়ের আন্দোলনও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই হয়েছে। নির্বাচনকে গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অক্ষুণ্ন থাকলেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও সুরক্ষিত থাকবে।
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হট্টগোলের ঘটনাতেও দুঃখ প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কাম্য নয় এবং বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।