রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃক্ষমেলা শেষ হলেও বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব শেষ নয়: পরিবেশমন্ত্রী
মন্ত্রী জানান, এবারের মেলা শুধু চারা কেনাবেচার আয়োজন ছিল না; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততার একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মেলা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও মেলার উদ্বোধন করেন। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম বছরেই পাঁচ কোটি চারা রোপণের কাজ চলছে, যার মধ্যে বন অধিদপ্তর ৩.৫ কোটি চারা রোপণ করবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩.৫ লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সারাদেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে প্রায় ২.৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন
মন্ত্রী জানান, এবারের মেলায় ৭৪টি নার্সারি অংশ নেয় এবং দর্শনার্থীরা প্রায় ১৬ লাখ চারা কিনেছেন, যার মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এটি প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ছে এবং নার্সারি খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রসারিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)। সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী। তিনি বৃক্ষরোপণে অধিক মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পুরস্কারের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি, প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং মেলার নির্বাচিত স্টলমালিকদের পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।