আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ বছরের প্রতিপাদ্য 'Bringing the world together to help elephants' এবং এর বাংলা প্রতিপাদ্য 'বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি'। দিবসটির মূল লক্ষ্য হাতি ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী
মন্ত্রী জানান, একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে তাদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্য হাতির সংখ্যা ২৬৮টি, পরিযায়ী বন্য হাতি ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাতি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮–২০২৭)' প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সরকার 'বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১'-এর আওতায় ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার পায় ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তি পেতে পারেন সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ২০১২ সাল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত নিহত ৩২২ ব্যক্তির পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানে বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী আরও জানান, মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা প্রদান, হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনো টেকসই হবে না।
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তাঁর এলাকায় হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন) ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি রক্ষার উপকারিতা সাধারণভাবে বোঝা যায় না, ফলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেতে অসুবিধা হয়। তিনি সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সাথে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব হাতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।
এতে হাতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।