ওই হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে—শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল—দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং শেখ মুজিবের একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের।
শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
এছাড়া হত্যার শিকার হন রাষ্ট্রপতিকে বাঁচাতে ছুটে আসা তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দীন, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।
একই রাতে সেনাসদস্যদের আরেকটি দল শেখ মুজিবের ভাগনে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে। ওই রাতেই বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার মেয়ে বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, ভাতিজা সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকে হত্যা করা হয়।
আরও পড়ুন
তখন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।
স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। শেখ মুজিব ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা। তবে স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে তাকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।
১৯৭৫ সালের শুরুতে তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা 'বাকশাল' চালু করেন, যা বিরোধী রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষের জন্ম দেয়। এই পরিস্থিতিই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের তৎপরতা বাড়িয়ে তোলে, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ১৫ আগস্ট।
পঁচাত্তরের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০০৯ থেকে টানা ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও দিনটি জাতীয় শোক দিবস ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শেখ মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে এখন আর সরকারি ছুটি নেই।