জাতীয়

শিক্ষকদের বড় সুখবর দিলেন মন্ত্রী

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে
বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, 'এই দিনে আমাদের দেশমাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই দিনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি। এই দিনটি এমন একটি দিন, যেদিন হাজারো কোটি টাকা খরচ করে দিনটি উদযাপন করা হতো। আর আজকে এই দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন।'

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, 'আজ সারা দেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে তাদের অংশভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তাই জাতির ইতিহাসে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ডের প্রোগ্রামে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আরও কয়েকটি কাজ আমরা করতে পারিনি। সেজন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩১ জায়গায় ৩২, ৩৩ করেছেন। আমাদের আরও দুটি কাজ বাদ পড়েছে।'

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, 'একটি হচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ। এটা আমরা শেষ করতে পারিনি। আমরা পারিনি তার প্রিয় বিষয়—কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে যে কারিগরি শিক্ষার ফেয়ার এবং সেখানে যা করেছি, সেগুলো তার সময়ের অভাবে করতে পারিনি। আশা করি, তিনি ১৮০ দিনের প্রোগ্রামে এগুলো নিয়ে যাবেন। আজকে এই শিক্ষাখাতে, এই কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতার সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা করে দিচ্ছি। বাকি টাকা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করছেন এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখছেন।'

তিনি যোগ করেন, 'ইতিমধ্যে বিগত সরকার এই খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তারা ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আটটি ব্যাংকে রেখেছে, যেখান থেকে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এছাড়াও সরকারি ব্যাংকে আমাদের কিছু টাকা রয়েছে, সেগুলো আমরা পেতে যাচ্ছি।'

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, 'আগামী দিনে আমাদের এই ৬ শতাংশ ও ৪ শতাংশ অনুদান এবং প্রধানমন্ত্রীর বন্ড কেনার টাকা—মোট ৮৮ হাজার কোটি টাকার বন্ডের সম্পদ রয়েছে। এই আয় দিয়ে আজকে যে যাত্রা আমরা শুরু করলাম, ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধাভোগীকে কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতা—আগামী বছরে আমরা ক্রমান্বয়ে বাকি সকল টাকা পরিশোধ করব ইনশাআল্লাহ।'

শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে, একজন শিক্ষক যখন চাকরিজীবন শেষ করে বাড়ি ফিরতেন, তখন আমরা একটি টুপি, একটি পাঞ্জাবি, একটি ছাতা, একটি লাঠি ও একদিন কোরআন শরিফ দিয়ে তাদের বিদায় করতাম। যে শিক্ষকরা জাতি গঠনে সাহায্য করেছেন, তাদের এভাবে বিদায় দেওয়া যায় না।'

তিনি বলেন, 'এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী প্রথম কল্যাণ ট্রাস্টে ১৪ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ৮৯ কোটি টাকা দিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। আজকের এই দিনে আমরা স্মরণ করব আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যিনি বেসরকারি শিক্ষকদের শতকরা ৫০ ভাগ বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন এবং শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া শুরু করেছিলেন।'

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আগামী দিনে এই শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া চলতেই থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে আমরা চাই, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য যা করণীয়, আমরা সেদিকে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।'

একই বিভাগের আরও খবর