জাতীয়

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সকল দপ্তর-সংস্থায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালু করা হবে: মীর শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে
বিজ্ঞাপন

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারসংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অফিসগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সংসদ ভবনে ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি অফিসেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার চালু করা হলে সরকারের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এ কার্যক্রম শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি অফিসে ধাপে ধাপে নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী জানান, নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের দপ্তর-সংস্থার সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের রাজস্ব আহরণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিজ্ঞাপন

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দুজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিগুলো ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল ও গ্রামীণ শক্তির মতো সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুৎ চালুর পদ্ধতি ও সম্ভাব্য ব্যয়সহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিজ্ঞাপন

সভায় উল্লেখ করা হয়, সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্দেশনা জারি করেছে। ওই পরিপত্রে বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ থেকে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ব্রিফিং শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) নিয়ন্ত্রণে একটি পৃথক বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্রও তুলে ধরেন এবং জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকির, এনডিসি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এ.কে.এম. তারেক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

একই বিভাগের আরও খবর