বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ মনে করার সুযোগ নেই। এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া। ওই আন্দোলনে জেগে ওঠা মানুষ এখনো যেকোনো ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় সজাগ রয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা জেগে উঠেছিলেন, তারা মারা যাননি বা ঘুমিয়ে পড়েননি; তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর ভাষায়, মূল যুদ্ধের আগে বাহিনীকে প্রস্তুতি ও মহড়া দিতে হয়। তাই ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে করার সুযোগ নেই, এটি ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।
আরও পড়ুন
-
জামায়াত মজলুম থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে: রাশেদ খাঁনশনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
-
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসছে নতুন মুখ, চলছে বড় ধরনের সাংগঠনিক পুনর্গঠনশনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
-
‘টাকা না থাকলে চিকিৎসা পাবেন না’, এমন পরিস্থিতি থেকে বের হতে হবেশুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনা আরও বেড়েছে।
জামায়াত আমির ফ্যাসিবাদকে সংক্রামক ব্যাধির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যে-ই এই ‘ভাইরাসে’ আক্রান্ত হবে, সে-ই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠবে। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে পথে চলেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথ অনুসরণ করছে। এই পথ পরিবর্তন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সচেতন নাগরিকদের প্রত্যেকেরই জাদুঘরটি পরিদর্শন করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, একটি বিশেষ দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করতে জাদুঘরের অনেক উপাদান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় আসার পর প্রায় সব সরকারই ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, ক্ষমতায় থাকা কেউই এ ধরনের প্রবণতা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হলো পাসপোর্টের শক্তি; বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।