রোববার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বন্যার্তদের পুনর্বাসনে যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি খাত: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষে এককভাবে সব সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ করা কঠিন। এতে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ তৈরি হয়। বিতরণ ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত ও এনজিওকে যুক্ত করা হলে কাজের দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতি কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতিতে মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত পুনর্বাসন নিশ্চিত না হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন
গত জুলাইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িসহ ১০টি জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রায় ৮ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থায়নে ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২৬ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিভিন্ন পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৪০০ পরিবারকে ল্যাট্রিন নির্মাণ, ৩০টি টিউবওয়েল পুনর্বাসন, ২৫০ পরিবারকে ঘর মেরামত, ৩০০ পরিবারকে জীবিকা সহায়তা এবং ৬০০ পরিবারকে কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৫০টি বিদ্যালয় পুনর্বাসন ও ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হবে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে আয়োজন করা হবে ৩০০টি সচেতনতামূলক সেশন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক চৌধুরী এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।