একটি হামলার পর পালটা হামলা, তারপর প্রতিশোধ—এভাবে সংঘাত ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এর প্রভাবও যুদ্ধরত দেশগুলোর সীমানায় থেমে থাকে না। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা দেখা দিলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়, বাড়ে তেল ও পরিবহন ব্যয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ, কৃষি, শিল্প ও খাদ্যপণ্যের বাজারে। অর্থাৎ যুদ্ধের আগুন যেখানে জ্বলে, তার উত্তাপ অনুভূত হয় বহু দূরের মানুষের জীবনেও।
মতামত
পৃথিবী কি কেবল শক্তিধরদের খেলাঘর?
প্রশ্ন হলো—কয়েকটি শক্তিধর রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের মূল্য কেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে দিতে হবে? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সামরিক শক্তি ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা তার চেয়ে বড় হওয়া উচিত। কারণ যুদ্ধের প্রতিটি পরিসংখ্যানের আড়ালে রয়েছে একটি পরিবার, একটি জীবন ও একটি ভবিষ্যৎ।
এই সংকটের সমাধান আরও অস্ত্র কিংবা শক্তি প্রদর্শনে নয়; প্রয়োজন সংযম, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকর প্রয়োগ। পৃথিবী কোনো পরাশক্তির ব্যক্তিগত খেলাঘর নয়। এটি সবার অভিন্ন আবাস। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত কয়েকটি ক্ষমতাকেন্দ্রে নেওয়া হলেও তার অশ্রু ঝরে সর্বত্র। তাই মানবতার পরাজয়ের বিনিময়ে অর্জিত কোনো সামরিক বিজয়ই প্রকৃত বিজয় হতে পারে না।