সিলেটে নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত: সিনিয়র স্বরাষ্ট্র সচিব
সিনিয়র সচিব বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মধ্যে পার্থক্য যথাযথভাবে চিহ্নিত করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রত্যেক ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। অনেকেই প্রতারণা, শোষণ বা মানবপাচারের শিকার হতে পারেন।
তিনি বলেন, অভিবাসী চোরাচালান একটি সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ। তাই সীমান্তে নজরদারির পাশাপাশি ভিসা ও কাগজপত্র জালিয়াতি, দালাল-মধ্যস্থতাকারী এবং অপরাধী চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুন
কর্মশালায় নতুন আইনের বিভিন্ন বিধান, ভুয়া ভিসা ও কাগজপত্র, অপরাধী চক্র শনাক্তকরণ, সম্ভাব্য ভুক্তভোগী সুরক্ষা, তদন্ত পদ্ধতি এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, দালাল ও মধ্যস্থতাকারী শনাক্তকরণ এবং ভিসা-কাগজপত্র যাচাইয়ের বিষয়েও অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, কর্মসংস্থান ও অভিবাসনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন চক্র প্রতারণামূলক নিয়োগ, ভুয়া ভিসা ও কাগজপত্র এবং অবৈধ পথে বিদেশে পাঠানোর মতো অপরাধ করছে। এসব মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন ও সীমান্তপারের যোগসূত্র শনাক্ত করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সরওয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।