বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বাসেডর ফেরদৌস শাহরিয়ার অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন’ সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারক হতে হবে বাংলাদেশকে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স অর্থনীতির বড় শক্তি হলেও কয়েকটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তি ও সেবা খাতসহ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস বহুমুখী করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সফটওয়্যার, আউটসোর্সিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবাকে বিলিয়ন ডলার আয়ের খাত হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও মেধাবী জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।
আরও পড়ুন
সিলিকন ভ্যালি সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অ্যাপল, মেটা ও এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। অ্যানথ্রপিকও বাংলাদেশে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উইংকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংগুলোকে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সেবা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য এআইভিত্তিক সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ প্রযুক্তিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে হার্ডওয়্যার উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
এআই নিয়ে আলোচনা শুধু সেমিনার বা সংলাপে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়ী সমাজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বাস্তবমুখী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।