প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিন আগেও নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল ঋণ, বাড়তি সুদের চাপ এবং বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এআই খাতের ঋণ নিয়ে উদ্বেগ, সপ্তাহজুড়ে নাসডাকের বড় পতন
এই উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘নিওক্লাউড’ প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা এআই কোম্পানিগুলোকে কম্পিউটিং সক্ষমতা ভাড়া দেয়। এনভিডিয়ার সমর্থনপুষ্ট এবং ২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোরউইভ এ ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রবৃদ্ধির জন্য বিপুল ঋণ নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি সেই ঋণ পরিশোধে পর্যাপ্ত মুনাফা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ডি. এ. ডেভিডসনের প্রযুক্তি গবেষণা বিভাগের প্রধান গিল লুরিয়া।
বৃহস্পতিবার এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং কোরউইভ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করলেও পরদিন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর প্রায় ১২ শতাংশ কমে যায়। পুরো সপ্তাহে শেয়ারটির মূল্য কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ। গত মার্চে তালিকাভুক্তির পর সর্বোচ্চ দরের তুলনায় বর্তমানে শেয়ারটি ৬৫ শতাংশের বেশি নিচে রয়েছে।
আরও পড়ুন
এদিকে, মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতাদের শেয়ারেও বড় পতন দেখা গেছে। চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক শুক্রবার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে; পুরো সপ্তাহে পতন হয়েছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে খারাপ সাপ্তাহিক ফলাফল।
এশিয়ার বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারসূচক কোস্পি এক সপ্তাহে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে, যা ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। অন্যদিকে, বাজারের অস্থিরতা পরিমাপক ভিআইএক্স সূচক শুক্রবার ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে ২০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। মাসের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ২ শতাংশ এবং নাসডাক প্রায় ৫ শতাংশ নিচে নেমেছে।