তিনি বলেন, টেকসই নগরায়ণের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলার জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। ঢাকার চারপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রথমবারের মতো ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মেট্রোপলিটন শহর থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এ পরিকল্পনা সম্প্রসারিত করা হবে।
রোববার ঢাকায় সেগুনবাগিচায় স্থাপত্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর (ইউডিডি) আয়োজিত “বাংলাদেশে Uniform Spatial Planning System প্রবর্তন” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীলতা এবং কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি নীতিগত কাঠামো তৈরি করবে।
আরও পড়ুন
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। স্বাগত বক্তব্য দেন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. মাহমুদ আলী।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে রাজউক, সিডিএ, কেডিএ, আরডিএ, কক্সডিএ, এলজিইডি, সিটি করপোরেশন ও ইউডিডিসহ বিভিন্ন সংস্থা নিজ নিজ আইনি ভিত্তি ও কার্যপরিধির অধীনে স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। তবে সংস্থাগুলোর ফলাফল, জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলা কৌশল, ভূমির ব্যবহার, মানচিত্রের স্কেল ও তথ্যের ফরম্যাটে ভিন্নতা রয়েছে। এ সংকট নিরসনে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ‘Uniform Spatial Planning System’ বা সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা ব্যবস্থার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা সব সংস্থার জরিপের ধরন, তথ্যের মান, মানচিত্রের স্কেল, ভূমি ব্যবহারের শ্রেণি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অভিন্নতা আনবে।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ২০৩৫ সালের মধ্যে জাতীয় ও দেশের সব জেলার জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।