আরেকটি বিষয়ও এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনন্য পরম্পরার অংশ হয়ে উঠেছে। যে মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তার মাতা বেগম খালেদা জিয়া, একই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন তারেক রহমান। বিশ্ব ইতিহাসে একই পরিবারের তিনজনের এমন রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত খুবই বিরল।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ সফরে অর্জন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারই প্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই বক্তব্যের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। এই সফরকে মূল্যায়নের অন্তত তিনটি জায়গা রয়েছে। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন; দ্বিতীয়ত, তিনি কার সাথে কী ধরনের যোগাযোগ করেছেন; তৃতীয়ত, বাংলাদেশের জন্য এই সফরের বাস্তব ফলাফল কী হতে পারে।
প্রথমে ইতিবাচক দিকটি বলা যাক—
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি শুধু জাতিসঙ্ঘের মঞ্চে বক্তৃতা দিয়ে দেশে ফিরে আসেননি। নিউ ইয়র্কে তিনি তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, হাইতি, ভুটান ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সাথে বৈঠক করেছেন। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সাথেও তার বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসেছে। নিঃসন্দেহে এটি সফরের একটি অর্জন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠে এসেছে। তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কটের কথা বলেছেন। বলেছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে এবং এই সঙ্কটের মূল উৎস মিয়ানমার। নিরাপদ প্রত্যাবাসনকেই তিনি সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও তার বক্তব্যে এসেছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির অন্যতম ভুক্তভোগী অথচ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম— এই বাস্তবতাও তিনি তুলে ধরেছেন।
এ ছাড়া এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য বাজারসুবিধা, অর্থায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ও তার বক্তব্যে এসেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পুরো বক্তব্যকে শুধু ‘ফ্যামিলি কার্ডের বক্তব্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কিন্তু এখানেই আলোচনার দ্বিতীয় জায়গাটি আসে। প্রশ্ন হলো— বিশ্বমঞ্চে একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী কী বলবেন?
জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ কোনো দেশের বাজেট বক্তৃতার জায়গা নয়। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে একটি দেশ তার জাতীয় স্বার্থ তুলে ধরবে, একই সাথে বৃহত্তর বিশ্বব্যবস্থা সম্পর্কে তার অবস্থানও জানাবে। এই জায়গা থেকে দেখলে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকলেও বক্তব্যটি আরো বেশি আন্তর্জাতিক-রাজনৈতিক চরিত্র পেতে পারত বলে মনে হয়।
বিশেষ করে একই অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের বক্তব্যের দিকে তাকালে একটি পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বালেন্দ্র শাহ তার বক্তব্যের শুরুতেই নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও জলবায়ু বিপর্যয়কে একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রশ্নে পরিণত করেছেন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু সঙ্কট তৈরিতে যাদের অবদান খুব কম, তারাই এর ভয়াবহ মূল্য দিচ্ছে। তিনি জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন এবং হিমালয় অঞ্চলের সহযোগিতার কথা বলেছেন। এমনকি নেপাল, ভারত ও চীনের মধ্যে একটি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’-এর প্রস্তাবও দিয়েছেন। এখানে তার কৌশলটি ছিল স্পষ্ট— তিনি জাতীয় সমস্যাকে বৈশ্বিক সমস্যায় রূপান্তর করেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও অবশ্য জাতীয় সমস্যাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলেছেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এলডিসি উত্তরণ তার প্রমাণ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি আরো একটু বড় ক্যানভাসে যেতে পারতাম?
বিশ্ব এখন যুদ্ধ, সঙ্ঘাত, ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জ্বালানি সঙ্কট, খাদ্যনিরাপত্তা, এআই এবং জলবায়ু সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এসবের কিছু বিষয় এসেছে; কিন্তু বাংলাদেশের নিজস্ব অবস্থানকে আরো স্বতন্ত্র ও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার সুযোগ ছিল।
এখন আসা যাক ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে—
অনেকে প্রশ্ন করছেন, জাতিসঙ্ঘের মতো বিশ্বমঞ্চে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলার প্রয়োজন কী ছিল? আমি এটিকে সরাসরি ভুল বলব না। কারণ প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ফ্যামিলি কার্ডকে কেবল একটি দেশীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তিনি এটিকে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার একটি মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। নারীর নামে এই কার্ড দেয়ার কথা বলে তিনি এটিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছেন। একই সাথে কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং একটি ইউনিভার্সাল কার্ডের কথাও বলেছেন।
অর্থাৎ ফ্যামিলি কার্ডের আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতা তৈরির চেষ্টা ছিল; কিন্তু একটি নীতির নাম বললেই সেটি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় না। এর সাথে বাংলাদেশের কোন বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা যুক্ত হচ্ছে, অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো কিভাবে এখান থেকে শিখতে পারে, এটি কিভাবে সামাজিক সুরক্ষার একটি নতুন মডেল হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ ঠিক কী ধরনের সহযোগিতা চাইছে— এসব ব্যাখ্যা আরো শক্তিশালী হলে ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গটি আরো অর্থবহ হতো।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথাও গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং থ্রি-আর-রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশনের কথা বলেছেন। নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বলতে চেয়েছে, বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক শ্রোতার জন্য বক্তব্যটি আরো সংক্ষিপ্ত, প্রভাবশালী এবং ভবিষ্যতমুখী হতে পারত। কারণ আন্তর্জাতিক শ্রোতা শুধু জানতে চায় না বাংলাদেশে কী ঘটেছে। তারা জানতে চায়— বাংলাদেশ এখন কোথায় যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায়, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, বিশ্ব অর্থনীতিতে, জলবায়ু কূটনীতিতে এবং পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে— এসব বিষয় আরো স্পষ্টভাবে উঠে আসতে পারত।
এখন আসা যাক আরেকটি বিতর্কিত প্রসঙ্গে— বক্তব্যটি কি অতিরিক্ত স্ক্রিপ্টনির্ভর ছিল? সামাজিক মাধ্যমে বা বিভিন্ন আলোচনায় জাতিসঙ্ঘের হলের কিছু খালি চেয়ার দেখিয়ে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের আগ্রহ ছিল না। শুধু খালি চেয়ার দেখে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিভিন্ন সময়ে প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ওঠানামা করে। তাই চেয়ার খালি থাকা মানেই বক্তৃতা কেউ শুনছিল না— এমন সিদ্ধান্ত তথ্যসম্মত নয়।
তবে এর মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে। আজকের বিশ্বমঞ্চে শুধু ভালো তথ্য দিলেই হয় না। সেই তথ্যকে কিভাবে রাজনৈতিকভাবে অর্থবহ করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বালেন্দ্র শাহের বক্তব্যের ক্ষেত্রে আমরা সেটি দেখেছি। তিনি তার দেশের ভয়াবহ বন্যাকে জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নে পরিণত করেছেন। যারা এই সঙ্কট তৈরিতে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেছে, তাদেরই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে— এই বার্তাটি তিনি বিশ্বমঞ্চে স্পষ্টভাবে দিয়েছেন।
এই কারণেই বালেন্দ্র শাহ ও তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে তুল্যমূল্য আলোচনা হচ্ছে। এই তুলনা বক্তৃতার দৈর্ঘ্য বা ভাষার সৌন্দর্যের নয়; বরং বিশ্বমঞ্চে কে কী বার্তা দিতে পেরেছেন, সেই জায়গায়।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের বক্তব্যকে অনেকে স্মার্ট বলছেন, কারণ তিনি নেপালের একটি বাস্তব সঙ্কটকে বৈশ্বিক সঙ্কটের সাথে যুক্ত করতে পেরেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, হিমালয় অঞ্চল, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা এবং বড় শক্তিগুলোর নীতির প্রভাবের মতো বিষয় তুলে তিনি নেপালের সমস্যাকে বৃহত্তর বিশ্বের সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ফলে তার বক্তব্যে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বার্তা তৈরি হয়েছে।
অন্য দিকে তারেক রহমানের বক্তব্যে রোহিঙ্গা সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন, এলডিসি উত্তরণ, শান্তি, প্রযুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। অর্থাৎ বক্তব্যে বিষয়বস্তুর ঘাটতি ছিল না। প্রশ্নটি বরং উপস্থাপনের কৌশল ও বার্তার স্বাতন্ত্র্য নিয়ে। ফ্যামিলি কার্ড-সহ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরার ফলে বক্তব্যের একটি অংশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতির বিবরণে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এগুলোকে বিশ্বমঞ্চে আরো বৃহত্তর কোনো বার্তার সাথে যুক্ত করা যেত।
তাই বালেন্দ্র শাহ ‘ভালো’ আর তারেক রহমান ‘খারাপ’— এমন সরল সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, বালেন্দ্র শাহ তার বক্তব্যের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক বার্তা স্পষ্টভাবে তৈরি করতে পেরেছেন; তারেক রহমানের বক্তব্যে সেই বার্তাটি তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান ছিল।
বাংলাদেশেরও এমন বহু গল্প আছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি আছে। নদী ও পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা আছে। এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা চাইলে এসবকে শুধু বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে বলতে পারি। আবার চাইলে বলতে পারি— বাংলাদেশের সমস্যা আসলে বিশ্বব্যবস্থার একটি বড় পরীক্ষার অংশ।
আমার মনে হয়, দ্বিতীয় ধরনের ভাষ্যই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেশি শক্তিশালী।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জায়গা থেকে দেখা দরকার। এই সফরে অর্জন আছে। বিশ্বনেতাদের সাথে একাধিক বৈঠক হয়েছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, রোহিঙ্গা সঙ্কট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলা হয়েছে, জলবায়ু ও এলডিসি উত্তরণের বিষয় এসেছে। কিন্তু একই সাথে একটি অপূর্ণতার জায়গাও আছে। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশাকে আরো শক্তিশালী, সংক্ষিপ্ত এবং আন্তর্জাতিকভাবে আকর্ষণীয় রাজনৈতিক বয়ানে রূপ দেয়ার সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন থাকছে।
আমরা প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট সম্মান করি। তাই তার প্রতি সমালোচনাটিও দায়িত্ববোধ থেকেই করছি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসঙ্ঘের মতো বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াবেন, তখন তার বক্তব্যে শুধু সরকারের কর্মসূচি নয়— বাংলাদেশের স্বপ্ন, বাংলাদেশের অবস্থান এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিশ্বদর্শন, এই তিনটি বিষয় একসাথে দৃশ্যমান হওয়া দরকার।
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অবশ্যই বলা যেতে পারে; কিন্তু তার সাথে বলতে হবে— এই কার্ডের পেছনে কী দর্শন আছে, এটি কিভাবে সামাজিক বৈষম্য কমাবে, কিভাবে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটাবে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য এটি কী শিক্ষা বহন করে।
একইভাবে রোহিঙ্গা সঙ্কট শুধু বাংলাদেশের বোঝা নয়— এটি আন্তর্জাতিক মানবিক দায়ের প্রশ্ন। জলবায়ু শুধু বাংলাদেশের ক্ষতির গল্প নয়, এটি জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। এলডিসি উত্তরণ শুধু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বৈশ্বিক নীতি-চ্যালেঞ্জ। এই পার্থক্যটি তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশের বক্তব্য আরো বড় হয়ে ওঠে।
আমার কাছে এবারের সফরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিই— বিশ্বমঞ্চে একটি দেশকে শুধু নিজের কথা বললে হয় না; নিজের গল্পকে বিশ্বের গল্পের সাথে যুক্ত করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী সেই যাত্রা শুরু করেছেন। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী আন্তর্জাতিক সফরগুলোতে বাংলাদেশ সেই গল্পটিকে আরো কতটা স্পষ্ট, শক্তিশালী এবং স্বতন্ত্রভাবে তুলে ধরতে পারে। এটিই হবে এই সফরের প্রকৃত সাফল্যের বড় পরীক্ষা।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন