আইন-বিচার

পারফিউম ব্যবসার আড়ালে হাজার কোটি টাকার হুন্ডির অভিযোগ, এনবিআরের তদন্তে আল হারামাই

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

সিআইসির তথ্য অনুযায়ী, আল হারামাইন পারফিউমসের মালিক সিলেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং গোল্ডেন ভিসার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। তার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বিশ্বের ৮৬টি দেশে বিস্তৃত। বাংলাদেশ ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির শোরুম রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, আমদানি-রপ্তানি ও পারফিউম ব্যবসার আড়ালে এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ পাচার এবং হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এ বিষয়ে দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি সিআইসির একটি প্রতিনিধি দল সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করে। সেখানে মাহতাবুর রহমান নাসিরের সম্পদসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব দেশে তার সম্পদের তথ্য রয়েছে, সেসব দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

দেশের অভ্যন্তরেও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। সিলেটে মাহতাবুর রহমান নাসিরের বাড়িতে দুই দফা তল্লাশি চালিয়ে ১০৪টি সম্পত্তির দলিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করেছে সিআইসি।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিআইসির আবেদনের ভিত্তিতে মাহতাবুর রহমান নাসির, তার পরিবারের সদস্য এবং আল হারামাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি তাদের আয়কর নথি ও স্থাবর সম্পদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই চলছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহতাবুর রহমান নাসির। তার দাবি, আল হারামাইন পারফিউমসই তার আয়ের একমাত্র উৎস। বাংলাদেশে ব্যবসায় লোকসান হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটি সফল। তিনি বলেন, তিনি কখনও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং তার কোনো অবৈধ ব্যবসাও নেই।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আল হারামাইনের শোরুমগুলো হুন্ডির অর্থ লেনদেনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার একটি শোরুমে অর্থ জমা দিলে দুবাইয়ের শোরুম থেকে সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হতো। এছাড়া স্বর্ণ চোরাচালানের একটি নেটওয়ার্কের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে তিনি জানান।

সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব বলেন, তদন্তের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা এবং প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

আল হারামাইন পারফিউমসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ১৫টির বেশি শোরুম রয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, গুলশান, বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তাদের বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।

একই বিভাগের আরও খবর