স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও উমরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলামের অনুসারীদের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য হাজী নুর হোসেনের পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে অতীতে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, প্রাণনাশের হুমকি এবং কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আ.লীগ নেতাদের সন্ত্রাসী তৎপরতায় উত্তপ্ত সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁও
এলাকাবাসীর ভাষ্য, গত ২৮ জুন বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে হাজী নুর হোসেনের পক্ষ থেকে সিলেট আদালতে নতুন একটি মামলা করা হয়েছে। তবে একাধিক সালিশ হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয়রা আরও জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর এলাকায় আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ দিনে কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হয়েছে। ৩১ মে হাজী নুর হোসেনের বাড়ি এবং ২৪ জুন কেয়ারটেকার সুবোধ সূত্রধরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ২৬ জুন সুবোধ সূত্রধরের বাড়ির একমাত্র চলাচলের পথ দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
সুবোধ সূত্রধর অভিযোগ করেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তার দাবি, পুলিশ চলে যাওয়ার পর হামলাকারীরা আবারও ভাঙচুর চালায় এবং চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসমানীনগর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অস্ত্রের মহড়া ও গুলির ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পাশের হাওর এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁওয়ে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।