‘মাদককে না বলি, সুস্থ সমাজ গড়ি’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন। তারা মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে গণস্বাক্ষর করেন।
এ সময় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন গুনাইগাছা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম আলাল, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর রহমান, বিএনপি কর্মী হেলাল উদ্দিন, শুকুর আলী, মোরশেদা খাতুন ও জমেলা খাতুনসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হলেও কিছু মাদক ব্যবসায়ী রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, আশরাফুল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও তার পক্ষ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিএনপি নেতা ভিপি সেলিম রেজার সহযোগিতার অভিযোগও তোলেন তারা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া কয়েকজন বিএনপি নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসিল্যান্ড ও থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অথচ গত ৩ জুলাই অভিযুক্ত আশরাফুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বিএনপি নেতা সেলিম রেজার বিরুদ্ধে দলীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ভিপি সেলিম রেজার বক্তব্য জানতে রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন চরপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামকে মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য মৌখিকভাবে সতর্ক করেন এলাকাবাসী। পরদিন তিনি কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, ১৭ জুন স্থানীয় বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ২০ জুন অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন আহত হন।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ভিপি সেলিম রেজার বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা রয়েছে।