সারাদেশ

রাজনীতি করতে আসিনি, বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি: ডা. শফিকুর রহমান

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

গুনাগরির ২ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছালে স্থানীয়দের মধ্যে সাড়া পড়ে যায়। কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে অন্যদের খবর দেন। স্থানীয়দের অনেকেই তাকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে স্বাগত জানান।

ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে লাবুর দোকানের পাশের একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে কয়েক দিন ধরে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

ত্রাণ বিতরণের পর তিনি পানিবন্দি বাড়িগুলোতেও যান। কোমরসমান পানি মাড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে পৌঁছে শিশু, বৃদ্ধ ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ নেন এবং তাদের হাতে সহায়তা তুলে দেন।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও অনেকেই শুধু ছবি তুলে চলে গেছেন। তবে ডা. শফিকুর রহমান তাদের বাড়ির সামনে এসে খোঁজ নিয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ফারাছা বেগম বলেন, ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ে এসেছেন। তিনি এসে তাদের কথা শুনেছেন এবং সহায়তা দিয়েছেন।

ত্রাণ কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট নিজের চোখে দেখতে এবং তাদের কথা শুনতেই এসেছি।”

তিনি জানান, জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাঠে না এলে মানুষের দুর্ভোগের প্রকৃত চিত্র বোঝা যায় না। তিনি দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বক্তব্য শেষে তিনি আবারও পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। স্থানীয়দের অনেকেই তার সঙ্গে দেখা করেন, নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান এবং সহায়তার আবেদন করেন।

একই বিভাগের আরও খবর