এ ছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি এসব অঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসনগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।
সাতকানিয়ায় বন্যার পানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও প্রবেশ করেছে। অসংখ্য বসতঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অন্যদিকে বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের কারণে ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের কয়েকটি স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে প্রায় দেড় ফুট পানি প্রবাহিত হওয়ায় দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।