ভুক্তভোগী মো. তাহসান মোল্লা মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মধ্য ব্রাক্ষন্দী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত জালাল মোল্লার ছেলে।
ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে ৪০ লাখ টাকা খোয়ালেন তরুণ, লিবিয়ায় নির্যাতনের অভিযোগ
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর তাহসান বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। তিন দিন পর তিনি বেনগাজিতে পৌঁছান। সেখানে তাকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে গত ৭ জুলাই মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার সিদ্দিখোলা এলাকার বাসিন্দা রুবিনা ও একই এলাকার লাইসু নামে দুই নারী লিবিয়া হয়ে তিন মাসের মধ্যে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেন। ইউরোপে স্বামী এবং ইতালিতে সন্তান থাকার কথা বলে তারা পরিবারের আস্থা অর্জন করেন। পরে বিদেশে পাঠানোর বিভিন্ন ধাপের কথা বলে কৌশলে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করেন।
আরও পড়ুন
তাহসান মোল্লার দাবি, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। নিয়মিত মারধরের পাশাপাশি ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলিয়ে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে আরও টাকা আদায় করা হয়।
তিনি বলেন, "প্রথমে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে আমাকে জিম্মি করে আরও ১৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে আমাদের পরিবার প্রায় ৪০ লাখ টাকা দিয়েছে। এখন আমরা নিঃস্ব।"
তাহসানের বড় বোন মোছাম্মৎ সুফিয়া আক্তার বলেন, "পরিবারের জমিজমা ও মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করে ৪০ লাখ টাকা জোগাড় করেছি। এখন আমাদের আর কিছুই নেই। আমরা এই প্রতারণার বিচার চাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করব।"
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রুবিনার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, "মানব পাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"
স্থানীয়দের দাবি, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তারা মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।